হাওর ও চা-বাগানবেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা। এ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসালয় রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক ও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। দিন দিন কমছে সেবার মান। সরকারি সেবা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। সংশিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১০টি পদ রয়েছে। কাগজেকলমে এখানে আছেন সাতজন। এর মধ্যে দুজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বহুদিন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া দুজন অন্যত্র প্রেষণে রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত আছেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি আ্যন্ড অবস.) ডা. সৈয়দা শারমিন সরওয়ার, ডেন্টাল সার্জন ডা. তমালিকা ঘোষ এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন ডা. সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদ। এ ছাড়া উপজেলায় আরও দুটি উপস্বাস্থ কেন্দ্র থাকলেও এগুলোতে নেই কোনো ডাক্তার।
সরেজমিন রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত ডাক্তার হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ত। জরুরি বিভাগে সেবা দিচ্ছেন উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার সুমিত্রা দে। হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইসিজি মেশিন সবই আছে। টেকনোলজিস্ট না থাকায় এসব ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে অতি প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগী। মাত্র দুজন ডাক্তার দিয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষের সেবা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার শাহিন মিয়া ও আঙ্গুরা বেগম বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম কিন্তু কোনো ডাক্তার পাইনি। সেবা নিতে আসা ডিপলু মিয়া বলেন, এখানে এসে কাক্সিক্ষত সেবাও পাওয়া যায় না। সব ধরনের টেস্ট বাইরে করাতে হয়। ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন অনেকে জানান, দিনে একবার এসে ডাক্তার দেখে যান। পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকদের খোঁজ পাওয়া যায় না। রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, নতুন ডাক্তার নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সীমিত জনবল নিয়ে সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।