বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৪ বছর করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চিকিৎসক সংকট কাটাতে পিএসসির মাধ্যমে আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আগে যখন অন্য ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর ছিল, তখন চিকিৎসকদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর। কিছুদিন আগে সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হলেও চিকিৎসকদের জন্যও তাই আছে। আমরা তখন একটি অনুরোধপত্র পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিবেচিত হয়নি। আমরা গত ৫ মার্চ আরেকটি অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি।
বিশেষ সহকারী জানান, ‘মানহীন মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু ম্যাটস নয়। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। চিকিৎসা শিক্ষার কোনো শাখায় মানের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। বিগত সরকারের সময় বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণে চিকিৎসকেরা গত বুধবার তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে ধর্মঘট করেছিলেন। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বর্তমান সরকার আন্তরিক। অন্তর্বর্তী সরকার শিগগিরই কিছু সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের এসব দাবি পূরণের চেষ্টা করবে।
সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা বুধবার আন্দোলন থেকে সরে এসেছে জানিয়ে বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘তবে এখনো কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসক শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপস্থিত রয়েছেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি, সবাই যেন নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।’
চিকিৎসক এবং রোগীদের সুরক্ষার জন্য আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উঠবে। এক সপ্তাহের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার কাজটি শেষ হবে বলেও জানান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।
এদিকে, বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণনয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে যেসব চিকিৎসক কর্মরত থাকেন, তাঁদের একটি বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) দাবি করা হয়েছে। আসলে তাঁদের পে-স্কেল দেওয়াটা একটা দুরূহ বিষয়। কারণ, এটি ইউনিফর্ম কাঠামো নয়। ঢাকা, বিভিন্ন মহানগর, জেলা শহর, উপজেলা শহর, বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের বেতনক্রম ভিন্ন হবে।’ তিনি বলেন, ‘তবে চিকিৎসকদের জন্য একটি সর্বনিম্ন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব দেব। বেসরকারি যেসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের মালিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুতই আমরা একটি সর্বনিম্ন বেতন চিকিৎসক এবং চিকিৎসকদের সহায়ক নার্সসহ অন্যদের জন্য প্রণয়নের চেষ্টা করব। আমরা আশাবাদী যে আমরা অল্প দিনের মধ্যেই সর্বনিম্ন বেতন ঘোষণা করতে সক্ষম হব।’