চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান করেননি বিরাট কোহলি। এরপরই কোহলি ও রোহিত শর্মাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন ভারতের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার অনিল কুম্বলে। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট সেদিকে নজর দেননি। নজরে নেননি কোহলিও। দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। জবাব দেন সমালোচকদের। একই সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সি কোহলি নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণও করেন। প্রমাণ করেন এ মুহূর্তে শুধু ভারত নয়, ক্রিকেট বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারও তিনি। পরশু দুবাইয়ে ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিশোধের ম্যাচে ৮৮ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন। ৯৮ বলে ৫ চারে ৮৪ রানের ইনিংসটি খেলেন ধীরলয়ে উইকেটে। অথচ একটু দ্রুতলয়ে ব্যাটিং করলে ৩০১ নম্বর ম্যাচে ৫২তম সেঞ্চুরিটি করতেই পারতেন। কিন্তু তাড়াহুড়া করে সাজঘরে ফিরেন। এজন্য একটু হতাশাও কাজ করেছে কোহলির কাছে। তিনি বলেন, ‘যে সময় আউট হয়েছি, তখন শতরান হতে আর ২০ রানের মতো বাকি ছিল। আমি চেয়েছিলাম তাড়াতাড়ি সেই রানটা করে দুই ওভারের মধ্যে খেলা শেষ করে দিতে। মাঝেমাঝে সে ভাবেই খেলতে চাই। তবে কখনো-সখনো আপনার ইচ্ছাটা পূরণ হয় না।’
৮৪ রানের ইনিংস খেলার পথে কোহলি শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে রান তাড়া করে ৮০০০ রানের নতুন মাইলফলক গড়েন। সেঞ্চুরি করেছেন ২৪টি। কোহলি এই রেকর্ডটি গড়েন ১৮০ ইনিংসে। টেন্ডুলকার করেছিলেন ২৪২ ম্যাচে ৮৭২০ রান। সেঞ্চুরি করেছিলেন ১৪টি।
বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে কোহলি একমাত্র যিনি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছেন। ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছেন। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেন। ২০২৪ সালে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন কোহলি। রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুলরা থাকার পরও কোচ গৌতম গম্ভীরের মূল ভরসায় বিরাট কোহলি। এখন পর্যন্ত ৩০১ ওয়ানডেতে রান করেছেন ৫৮.১১ গড়ে ১৪ হাজার ১৮০। সেঞ্চুরি ৫১ এবং হাফ সেঞ্চুরি ৭৪টি।