আগে আলোচনায় থাকতেন সাকিব আল হাসান। এখন সেই শূন্য স্থান পূরণ করেছেন দীর্ঘকায় পেসার নাহিদ রানা। দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত ম্যাচের আগের দিন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা জুড়ে ছিলেন ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ। ডান হাতি ফাস্ট বোলারের বোলিং নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। অথচ গতকাল টাইগার একাদশে সুযোগ পাননি নাহিদ। ডান পায়ের মাংসপেশিতে টান থাকায় জায়গা হয়নি দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদেরও। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মিশন শুরুর ম্যাচে মাসল পুল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেন তাওহিদ হৃদয়। তিন অঙ্কের সেঞ্চুরি করে ক্ষান্ত থাকেননি, জাকের আলিকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। দুজনের রেকর্ডগড়া ম্যাচটি অবশ্য বাংলাদেশ হেরেছে ৬ উইকেটে।
মরুশহরের ম্যাচটিতে আরও কয়েকটি রেকর্ড হয়েছে। মোহাম্মদ শামি চলতি আসরে প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ভারতের পক্ষে সবচেয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন ডান হাতি পেসার। তিনি রেকর্ডটি গড়েন ১০৪ ম্যাচে। এজন্য বল খরচ করেছেন ৫১২৬টি। অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি মিচেল স্টার্ক ১০২ ম্যাচে দ্রুততম ২০০ উইকেট নিলেও বল খরচ করেন ৫২৪০টি। পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাকলাইন মুস্তাক ১০৪ ম্যাচে ৫৪৫১ বল করে ‘টু হান্ড্রেড’ ক্লাবে নাম লিখেন। শামির গতকালের স্পেলটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের দ্বিতীয় সেরা। তিনি ৫৩ রানে নেন ৫ উইকেট এবং রবীন্দ্র জাদেজার ফিগার ৩৬ রানে ৫ উইকেট। ভারতের হয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৬০ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে। ক্যাচ ধরায় ভারতের পক্ষে রেকর্ড গড়েন বিরাট কোহলি। ১৫৬টি ক্যাচ ধরে যুগ্মভাবে সবার ওপরে কোহলি ও মোহম্মদ আজহারউদ্দিন।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের রেকর্ড গড়ার দিনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। বিশেষ করে তাওহিদ হৃদয়। গতকাল হারের পর টাইগার অধিনায়ক নাজমুল দোষারোপ করেন শুরুর ব্যাটিং ধসকে। তিনি বলেন, ‘প্রথম পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয় ম্যাচ থেকে আমাদের ছিটকে দিয়েছে। এমন অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কঠিন। হৃদয় ও জাকের এই বিপর্যয়ের মুখেও দুর্দান্ত বাটিং করে। ফিল্ডিংয়ে আমরা কিছু ক্যাচ মিস করেছি, রান আউট মিস করেছি। সেগুলো করতে পারলে ফল ভিন্ন রকম হতে পারত। আমাদের পেসাররা ভালো বোলিং করেছে। স্পিনাররাও খারাপ করেনি।’
টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে নাজমুল বাহিনী। ভারতের বিপক্ষে এমনটি হয়েছে তৃতীয়বার। শামির পর বাঁ হাতি স্পিনার অক্ষার প্যাটেলের ঘূর্ণিতে নবম ওভারে টানা দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৮.২ ও ৮.৩ ওভারে অক্ষারের বলে আউট হন যথাক্রমে তানজিদ তামিম ও মুশফিকুর রহিম। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা টাইগাররা তখন অক্ষারের হ্যাটট্রিকের সামনে। হ্যাটট্রিক বলে ফরোয়ার্ড খেলে প্রথম স্লিপে সহজ ক্যাচ দেন জাকের আলি। স্লিপে দাঁড়ানো ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ক্যাচ মিস করে ক্ষমা চান অক্ষারের কাছে। জীবন পেয়ে জাকের জুটি বাঁধেন হৃদয়ের সঙ্গে। দুজনে ঠান্ডা মাথায় ধীরলয়ে ইনিংস গড়ে তুলতে থাকেন। দুজনে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫৪ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন। ২০৫ বলে ১৫৪ রানের জুটিটি চাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ষষ্ঠ উইকেট সেরা। আগের রেকর্ডের মালিক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ও জাস্টিন কেম্প। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩১ রান করেছিলেন দুজনে। ভারতের বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যে কোনো দেশের সর্বোচ্চ রানের জুটিও এটি। এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বেসেটেরেতে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও জাকের আলি।
জুটিতে রেকর্ড গড়ার দিনে ১০০ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন হৃদয়। ব্যক্তিগত ৯১ রানে মাসল পুল করার পরও সেঞ্চুরি করেন পা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ১০০ রানের ইনিংস খেলেন ১১৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায়। প্রথম পঞ্চাশ করেন ৮৫ বলে। ১০০ রান করেন ১১৪ বলে। তামিম ইকবালের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় টাইগার ক্রিকেটার হৃদয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হৃদয়ের আগে সেঞ্চুরি করেছেন শাহরিয়ার নাফিস (১২৩*), তামিম ইকবাল (১২৮), সাকিব আল হাসান (১১৪) ও মাহমুদুল্লাহ (১০২*)।