হিমাগারে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)। গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিসিএসএর কার্যালয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া ও হিমাগার ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হিমাগার পরিচালনার জন্য গৃহীত ব্যাংক ঋণের সুদহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া সঠিক সময়ে কিস্তি প্রদান করতে না পারলে জরিমানা ২ শতাংশসহ মোট ১৭ শতাংশে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎ বিল, লোডিং-আনলোডিং ও বস্তা পরিবর্তন (পাল্টানি) খরচ, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত স্টাফদের বর্ধিত বেতন-ভাতা, বোনাস, সম্মানি, হিমাগারের ইন্স্যুরেন্স, অ্যামোনিয়া গ্যাস, লুব্রিক্যান্ট অয়েল খরচ, হিমাগারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মেরামত খরচ, অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব খরচ বিশ্লেষণ করে ২০২৫ সালে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে কেজি প্রতি ভাড়া দাঁড়ায় ৯ টাকা ৬২ পয়সা। এর সঙ্গে আরও অনেক খরচ আছে যা যোগ করলে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া দাঁড়াবে প্রায় ১২ টাকা। দেশের আলু চাষকারী কৃষক এবং হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিসিএসএর ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আর্থিক বিশ্লেষণে প্রাপ্ত কেজিপ্রতি ভাড়া ৯.৬২ টাকার পরিবর্তে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আলু চাষকারী কৃষককে সুরক্ষা প্রদানের জন্য যদি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কৃষকের সহনীয় পর্যায়ে আনতে হয় তাহলে হিমাগার শিল্প কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণা করে সরকারকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচলিত দ সুদসহ ব্যাংক ঋণের সুদ শতকরা ১৭ ভাগ থেকে কমিয়ে ৭ ভাগ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের ইউনিটপ্রতি রেট পিক আওয়ারে ১৩.৬২ ও অফপিক আওয়ারে ৯.৬২ টাকার স্থলে ৫ টাকা করতে হবে। ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে। উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) প্রত্যাহার করতে হবে। ত্রৈমাসিক ঋণের কিস্তির পরিবর্তে বার্ষিক করতে হবে।