বাংলাদেশে আটক ভারতীয় মৎস্যজীবীরা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসতেই তাদের অভ্যর্থনা জানালেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাশাপাশি সেসব মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তাও করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে। গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর দ্বীপে ‘মৎস্যজীবীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ও পরিবারের সঙ্গে মিলন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে এই মৎস্যজীবীদের অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মূলত এই ৯৫ জনকে ফেরত আনতে রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরার লক্ষ্য হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ আমরা প্রতিবেশী দুটি রাষ্ট্র। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। দুই বাংলার সম্পর্কও সুমধুর। কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আমাদের মৎস্যজীবীরা। তারা সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে চলে যায়। তারপর রাজ্য সরকারের তরফে মৎস্যজীবীদেরকে প্রদেয় ‘ট্র্যাকিং কার্ড’ মারফত আমরা তাদেরকে খুঁজে পাই।
আমরা বাংলাদেশে চলে যাওয়ার খবর পেয়েই চারদিকে খোঁজখবর রাখতে শুরু করি। পরে জানা যায় তাদেরকে সেখানকার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা যেমন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, তেমনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেও জানিয়েছিলাম। আমরা প্রতিদিন আমাদের মৎস্যজীবীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতাম। পরবর্তীতে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মৎস্যজীবীদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’ এ সময় ভারতে আটক বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের বহনকারী ট্রলারের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাসখানেক আগে বাংলাদেশের একটি ট্রলার আমাদের জলসীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে তারা অসুস্থ হয়েছিল। আমরা তাদের ভালো করে চিকিৎসা করাই তাদেরকে খুব যত্ন করে রেখেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম যাতে ভারত বা এ রাজ্যের কোনো বদনাম না হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা পুরো সহায়তা করেছি। পরে সেসব মৎস্যজীবীদের আমরা ফেরতও দিয়েছিলাম। তখন ওরা বিষয়টি বুঝতে পারে। আমরা নিশ্চয়ই চাই যে, দুই দেশই মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক।’