জামালপুরের বকশীগঞ্জসংলগ্ন তুরা অংশের মহেন্দ্রগঞ্জ থেকে আমাদের পাঠানো হয় ঘুঘুমারী ক্যাম্পে। এখানে এসেই আমরা প্রথম দফার যুদ্ধে চিলমারীতে পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের ওপর আক্রমণ করি। যুদ্ধে আবদুুল জলিল নামে আমাদের এক সাথী শহীদ হন। তাকে আমরা ঘুঘুমারি চড়ে দাফন করে ওই এলাকাকে জলিল নগর ঘোষণা করে চলে আসি বাঁশপাতা রৌমারী এলাকায়। খবর পেয়ে পাকিস্থানীরা বিমান হামলা চালায়। তখন আমরা চলে যাই মুল রৌমারী এলাকায়। এখানেই ক্যাম্প করি। এখান থেকেই আমরা রংপুরের চৌধুরানী রেললাইনের পাশে অবস্থান নিয়ে আবার সরে আসি। এরপরই আমাদের খুঁজতে আসে পাকিস্তানি সেনারা। আমাদের না পেয়ে পাকিস্তানি বিমান থেকে বম্বিং এই স্টেশনটি উড়িয়ে দেয়া হয়। তখন আমরা রৌমারি হেডকোয়াটারে চলে আসতে বাধ্য হই। আমি ভারতের মেঘালয় ঘেষা নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নীর নিভৃত পল্লীর সাধারণ পরিবারের সন্তান। ১৯৭১ সালে আমি টবগবে ১৯/২০ বছরের যুবক। আমার বড় ভাই আবদুুল গফুর নিয়মিত রেডিওতে মক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’ নিয়মিত শুনতেন। এই অনুষ্ঠান থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছিল যে- দেশের অনেক স্থানে বাঙালি সেনা, পুলিশ, ইপিআরসহ সাধারণ মানুষ পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন। মানুষ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিচ্ছিলেন। এ খবর জেনে আমি ও গফুর ভাই ভারতের মেঘালয়ের ঢালুর সাব সেক্টর ইয়ুথ ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখাই। একদিন আমাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য তৎকালির ইপিআর সুবেদার হাকিমের নেতৃত্বে তুরাতে চলে যাই।
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, অনুলেখক : মাসুদ হাসান বাদল, শেরপুর প্রতিনিধি