সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও তার স্ত্রী সীমা হামিদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২০টি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার ১১৬ টাকা রয়েছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখা এবং নিজ নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৯ টাকা জমা এবং মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৮ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহমূলক লেনদেন করে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন করার উদ্দেশে এর হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা তৎসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকালে জানা যায় যে, দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা রুজুর পর থেকে আসামি তার ব্যাংকে রক্ষিত টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বর্ণিত সম্পদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৭ ধারা মতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ মানি লন্ডারিং আইনের ১৪ ধারামতে আসামির নামে অস্থাবর সম্পত্তি উত্তোলন, হস্তান্তর বা মালিকানাস্বত্ব বদল রোধের নিমিত্ত উক্ত অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৬৭টি হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা রয়েছে।