কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রাম। গ্রামের অনেকে প্রবাসে থাকেন। প্রবাস থেকে ফিরে কয়েকজন কুল চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। শিকারপুরের উদ্যোক্তাদের সফলতা দেখে পাশের গ্রামেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়ক থেকে হাঁটাপথে পুব দিকে সবুজ ফসলের মাঠ। যে মাঠে ধান চাষ হতো, সে মাঠ এখন কুলের দখলে। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রঙিন কুল। কুলের ভারে যেন ডাল ভেঙে পড়ছে।
বলসুন্দরী, বারিসুন্দরী ও কাশ্মীরি কুল তোলায় ব্যস্ত উদ্যোক্তারা। কেউ কুল তুলছেন, কেউ মেপে দিচ্ছেন ক্রেতাকে। গ্রামের সুরুজ মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। বয়স বাড়ায় দেশে ফিরে আসেন। দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠান। বাড়িতে অলস বসে থাকতে ইচ্ছে হয় না। কিছু একটা কিছু করতে চান। মোবাইল ফোনে ইউটিউব ঘেঁটে দেখেন কুল চাষ। তিনি স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরামর্শ পেয়ে কুল চাষ শুরু করেন। চারা লাগানোর ছয় মাসের মাথায় সফলতার মুখ দেখেন। তাঁর দেখাদেখি পাশের সিদ্দিকুর রহমান, রমিজ উদ্দিনসহ অন্য কৃষকও কুল চাষ শুরু করেন। চাষিদের অধিকাংশ প্রবাসী। চাষি রমিজ উদ্দিন জানান, ২০ বছর প্রবাসে ছিলেন। দেশে এসে ১৮ শতক জমিতে কুলের চাষ করেন। তিন বছর ধরে ভালো ফলন পাচ্ছেন।
চলতি বছর শ্রমিক ও সারের খরচ ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ২ লাখ টাকার মতো। আরও ১ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি আগামীবার আরও ৩৬ শতক জমিতে কুল চাষ করবেন। চাষি আবুল কালাম বলেন, ‘কুলের জন্য আমাদের গ্রামটি সুপরিচিত। কুল চাষ করে অন্য ফসল থেকে আমরা বেশি লাভ পাচ্ছি।’ পাইকারি ক্রেতা নুরে আলম জানান, পাশের লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে তাদের ফলের দোকান রয়েছে। তিনি পাইকারি কেজি ১১০ টাকা দরে কুল কিনেছেন। ১৫০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি করবেন। এ কুল তাজা ও স্বাদ ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি, বিক্রি করতে বেশি সময় লাগে না। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুইয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি এখানে কিছু উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করতে। সুরুজ মিয়া, রমিজ উদ্দিনসহ অন্য চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’ তাঁদের দেখাদেখি অন্য কৃষকও কুল চাষে এগিয়ে আসেন। এ গ্রামের ৮ একর মাঠে এখন কুল চাষ হচ্ছে। দিনদিন এ কুলের চাষ আরও বাড়বে। ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নটি মূলত লতি চাষের জন্য বিখ্যাত। সারা দেশে এর সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি শিকারপুরসহ আশপাশের গ্রামের মাঠে বিভিন্ন প্রকারের কুলের চাষ হচ্ছে। আশা করি এ কুলের চাষ আরও বাড়বে।’