ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহমল্লিকদী গ্রামে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় , শাহমল্লিকদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ টুকু মোল্লার ছেলে ইয়াসির আরাফাত মনি মোল্লা (৩৫)কে গত সোমবার (৩১ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় টুকু মোল্লার পরিবার গ্রামে তাদের প্রতিপক্ষ শাফি মোল্লার লোকজনকে দায়ী করে। এরপর থেকে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। সর্বশেষ বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের কয়েকশত লোক ঢাল, সড়কি, রামদা, ইট, পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এ সময় দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ টুকু মোল্লা বলেন, শাফি মোল্লার পক্ষের বেলায়েত মুন্সীর ছেলে আরিফ মুন্সি ইয়াবা বিক্রি করে। আমার ছেলে মনি মোল্লা ইয়াবা বিক্রি করতে বাধা দিলে ঈদের দিন রাতে আমার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে শাফি মোল্লার লোকজন। বুধবার (২ এপ্রিল) তারা পুনরায় ঢাল, সড়কি নিয়ে আমাদের উপরে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়।
এ ঘটনায় শাফি মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টুকু মোল্লার সাথে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। তারা মাঝে মধ্যেই আমাদের লোকজনকে মারধর করে। আজকে তারা আমাদের উপরে হামলা চালিয়েছে। পরে আমরাও পাল্টা হামলা চালিয়েছি। আমার দলের কেউ ইয়াবা বিক্রি করে না।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহমুল্লুকদী গ্রামে পূর্ব শক্রতার জের ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ