ভালোবাসা একটি পবিত্র শব্দ। হৃদয়ের শিহরণ-জাগানিয়া আল্লাহ প্রদত্ত এক অদৃশ্য শক্তি ও পবিত্র অনুভূতি। এটি স্বভাবজাত ও অকৃত্রিম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু আর তিনি তোমাদের হৃদয়ে ভালোবাসা সঞ্চার করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)
কোথায় ব্যয়িত হবে এই ভালোবাসা—ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তার সীমারেখা। ভালোবাসা কাম্য, অবশ্যই কাম্য। ভালোবাসা ছাড়া কোনো মানুষই বাঁচতে পারে না। তবে সেই ভালোবাসা হতে হবে আল্লাহর জন্যই।
আল্লাহর ভালোবাসা সব ভালোবাসার ভিত্তি। মুমিনরা আল্লাহকে ভালোবাসে। মুমিনরা তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে। কোরআন বলছে, ‘মুমিনরা আল্লাহকেই সর্বাপেক্ষা বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬৫)
আল্লাহকে ভালোবাসার অর্থ কী—মহান আল্লাহ নিজে রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে জবাব দিচ্ছেন, হে নবী, আপনি বলে দিন, যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
সুতরাং আল্লাহকে ভালোবাসার অর্থ হলো—রাসুল (সা.) এবং তাঁর আনীত দ্বিনের অনুসরণ করা। যে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করবে সে যেন প্রতিটি কাজে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে। আর ভালোবাসার প্রকৃতি এমন যে এটি সীমাহীন।
এটি কখনো এক নির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ নয়, এটি শাশ্বত, অমলিন। এক মায়ের চোখে তাঁর সন্তানের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকে, তা পৃথিবীর সব ধন-সম্পদকেও হার মানায়। একজন মুমিনের কাছে ইসলাম ও দ্বিনের জন্য যে ভালোবাসা থাকে তার জন্য নিজের জীবনও বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এমনকি পৃথিবীর বুকে ঈমান ও ইসলামের পতাকা উড্ডীন রাখার জন্য হাসিমুখে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এটি হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।
ইসলাম বলে, আল্লাহকেই ভালোবাসবে আর সৃষ্টিজগতের সব কিছুকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে।
কেবল আল্লাহর জন্য ভালোবাসাকে এক হাদিসে সর্বোত্তম বলা হয়েছে, শ্রেষ্ঠতম আমল হচ্ছে—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ক্রুদ্ধ হওয়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৯৯)
অন্য হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি অন্য এক পল্লীতে তার (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেল। আল্লাহ তাআলা তার যাত্রাপথে এক ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। লোকটি যখন সেই ফেরেশতার কাছে পৌঁছল, তখন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যেতে চাচ্ছেন? সে বলল, আমি এই পল্লীতে আমার ভাইয়ের কাছে যেতে চাচ্ছি। ফেরেশতা বলল, তার দায়িত্বে কি আপনার কোনো সমপদ আছে, যা দেখাশোনা করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন? সে বলল, না। তবে আমি আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বলল, আমি আপনার কাছে এই মর্মে আল্লাহর বার্তাবাহক যে আপনি যেমন তাঁর জন্য এই ব্যক্তিকে ভালোবেসেছেন, তেমনি আল্লাহ তাআলাও আপনাকে ভালোবাসেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৭, মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৯২৯১)
আর যারা কেবল আল্লাহর জন্য সৃষ্টিকে ভালোবাসে তাদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, কোথায় সেই সব লোক, যারা আমার গৌরব-মহিমার কারণে একে অন্যকে ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার ছায়ায় স্থান দেব, যেদিন আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন