আবারও আলোচনায় হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডের রহস্যময় চরিত্র আবু ওবায়দা। ইসরায়েল তাকে হত্যা করার দাবি করেছে। তবে হামাস এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আবু ওবায়দা হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে প্রায় দুই দশক ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের খবর ও সংগঠনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন টেলিভিশন স্ক্রিনে।
আবু ওবায়দার আসল নাম ও পরিচয় এখনও অজানা। তিনি সবসময় সামরিক পোশাকে মুখ ঢেকে উপস্থিত হন, বিশেষ করে লাল কেফিয়াহ দিয়ে মুখ আড়াল করে। হামাস কখনোই তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি। ধারণা করা হয়, তিনি ১৯৮০-এর দশকে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তার পরিবার ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন থেকে উৎখাত হয়ে গাজায় আশ্রয় নিয়েছিল।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো তিনি মুখপাত্র হিসেবে আবির্ভূত হন। তখন থেকে প্রতিটি বড় সংঘর্ষে হামাসের পক্ষে বার্তা দেন তিনি। ২০০৬ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে আটক করার ঘোষণা কিংবা ২০১৪ সালে শাউল অ্যারনকে বন্দি করার খবর তিনিই প্রথম দেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর আবু ওবায়দার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় বহুগুণ। তিনি ঘোষণা দেন প্রায় ৪,৫০০ যোদ্ধা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। তার ভাষণে হামাসের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা ডিভিশন ধ্বংস করা।
আরব বিশ্বের বহু স্থানে আবু ওবায়দা প্রতিরোধের প্রতীক।
ইসরায়েল বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তার বাড়ি অন্তত তিনবার বোমা হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৪ সালে ইসরায়েলি মিডিয়া তার নাম হুযাইফা সামির আবদুল্লাহ আল-কালহুত বলে প্রচার করলেও হামাস তা অস্বীকার করে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র আবু ওবায়দাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। তাকে তথ্যযুদ্ধের প্রধান আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন অভিযোগ করে, তিনি ইরানের সহায়তায় হামাসের সাইবার অবকাঠামো পরিচালনা করছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল