ইসরায়েলের দাবি, গাজা সিটিতে তাদের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা।
রবিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট দিয়ে সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি ছিল একটি নিখুঁত অভিযান।
ইসরায়েলি সেনারা জানায়, গাজার আল-রিমাল এলাকায় শনিবার একটি বহুতল ভবনে একযোগে কয়েকটি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল এক ‘হামাসের এক নেতা’। পরে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আবু ওবায়দাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে হামাস এখনো তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ওই হামলায় সাধারণ মানুষও নিহত ও আহত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, অন্তত সাতজন মারা গেছেন এবং ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেই অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানা হয়েছিল তা আগে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিস্ফোরণের পর লাখ লাখ ডলারের নোট ছড়িয়ে পড়ে। পরে হামাস সদস্যরা ওই অর্থ সংগ্রহ করে।
আবু ওবায়দা প্রায় দুই দশক ধরে হামাসের সামরিক শাখার অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন। সর্বদা মুখ ঢেকে বক্তব্য দেওয়া এই নেতা, ফিলিস্তিনি সমর্থকদের কাছে একপ্রকার প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। শুক্রবার তার শেষ বক্তৃতায় তিনি ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবশিষ্ট ইসরায়েলি বন্দিদের ভাগ্য হবে হামাস যোদ্ধাদের মতোই, যদি গাজা সিটি আক্রমণ করা হয়।
ইসরায়েলি সেনারা বলছে, সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা নিখুঁত অস্ত্র, আকাশ থেকে নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে। তবে বিবিসি এখনো স্বতন্ত্রভাবে দুই পক্ষের দাবি যাচাই করতে পারেনি।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল