যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেড়েছে পোশাক রপ্তানি। জুলাই-আগস্টে জমে থাকা ক্রয়াদেশ ছাড় হতে শুরু করায় বেড়েছে আয়। ট্রাম্প প্রশাসনের চীনবিরোধী বাণিজ্যনীতির কারণে সামনে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দেশের বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট রপ্তানিতে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৫৮ কোটি ডলারের পোশাক। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩৪ কোটি ডলারের। যা ২০২৩ সালে ছিল ৭২৯ কোটি ডলার। তথ্যমতে, পোশাক রপ্তানি বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ডিসেম্বর মাসে পোশাক রপ্তানি একটু বেড়েছে। আরেক রপ্তানিকারক বলেন, জুলাই থেকে আমাদের যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবার রপ্তানি অত্যন্ত ভালো। তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছর ছিল ৭ হাজার ৭৯৩ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে দেশটির পোশাক আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে ভিয়েতনাম, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলারের পোশাক। যা আগের ২০২৩ সালে ছিল ১ হাজার ৪১৮ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এর পরেই রয়েছে ভারতের অবস্থান। ২০২৪ সালে দেশটি ৪৬৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যা ২০২৩ সালে ছিল ৪৪৭ কোটি ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে চীনের। গত বছর চীন রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ডলারের পোশাক।
যা ২০২৩ সালে ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ডলার। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্য রপ্তানিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। কিন্তু বর্তমান যে প্রেক্ষাপট শ্রমিক অসন্তোষ, ঊর্ধ্বমুখী সুদহার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতিমালা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশের বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বারবার এ সুযোগ আসবে না। এটা কাজে লাগানোর জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত। সরকার কি আমাদের সময়মতো নীতি সহায়তা দিচ্ছে। তাই সুযোগ পেলেও কাজে লাগানোটা কঠিন হয়ে যাবে। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ফলে ওই সময় চীন থেকে অনেক ক্রয়াদেশ সরে এসেছিল বাংলাদেশে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। সেটা ছিল সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।