জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, এখন আর পুরোনো রাজনীতি চলবে না। ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। ছাত্র সংগঠনগুলোকে বলব, ধীরে চলুন। নতুবা ছাত্রলীগের মতো অবস্থা হবে। আমরা আপনাদের রক্ষা করতে পারব না। আমরা কাউকে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেব না। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গত শনিবার বিকালে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল, খুনিদের সহযোগী ছিল, বিভিন্নভাবে খুনিদের সহযোগিতা করছে তারা কেউ যদি যুক্ত হতে চায় তাদের ঠেকিয়ে দিতে হবে। কারণ খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এর বাইরে বিকল্প পথ তাদের আর নেই। যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ নেই তাদের একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তারা যদি ক্ষমা প্রার্থনা না করে তাহলে তাদের বাংলাদেশে জায়গা হবে না। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি থেকে তরুণদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামে বাধা আসে, তাহলে বিপ্লবের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। নাসীরুদ্দীন বলেন, আমরা চাই আপনারা হাজারজন এসে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অংশগ্রহণ করেন। আপনাদের কাছে থাকা প্রশিক্ষণ যদি দেশের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশি শক্তি আসে, তাহলে প্রয়োগ করতে বাধ্য হব ইনশাআল্লাহ। নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের এক্স-সৈনিক ও অফিসাররা এখানে রয়েছেন, তারা সবাই একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারেন। জাতীয় নাগরিক কমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন মাঠে যাব, তখন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। পাঁচ তারিখে (৫ আগস্ট) যেভাবে কোনো র্যাঙ্কিং ও রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই লড়াই করেছিলাম, ভবিষ্যতেও একইভাবে লড়াই করতে হবে। আগামীর ব্যালটবিপ্লবকে সামনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দিন, মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) মেহেদী হাসান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মো. খালেদ হোসাইন, ক্যাপ্টেন (অব.) শুভ আফ্রিদি প্রমুখ। জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার উপস্থিত ছিলেন।