ফাল্গুন মাসে লিচুর মুকুলের ম ম গন্ধে ভরপুর থাকে পাবনার ঈশ্বরদীর গ্রামাঞ্চল। হলুদ রঙের মুকুলে ভরে থাকে লিচু বাগানগুলো। কিন্তু এবার সেই ম ম গন্ধ নেই, মুকুলের পরিবর্তে গজিয়েছে কচিপাতা। মুকুল কম আসায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বাগান মালিক, চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, লিচুর মুকুল না আসা, এমন করুণ দশা কয়েক দশকে দেখা যায়নি। মুকুল কম আসার জন্য বিরূপ আবহাওয়াকে দায়ী করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা। তারা বলছেন, লিচু পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রতিবছর ৫০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয় এই এলাকায়। লিচু চাষের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা চলে।
সরেজমিন দেখা যায়, মানিকনগর, মিরকামারী, চরমিরকামারী, কদিমপাড়া, সাহাপুর, ছিলিমপুর ও আওতাপাড়া গ্রামে শত শত লিচু বাগানে মুকুলের পরিবর্তে গজিয়েছে নতুন কচিপাতা। নতুন পাতা গজালে মুকুল আসে না। যে কারণে লিচুর উৎপাদন নিয়ে চাষিদের সংশয় তৈরি হয়েছে। ফাল্গুন মাসের শেষ সময়ে চাষিরা বাগান পরিচর্যা করছেন না। ব্যবহার হচ্ছে না সার, কীটনাশক ও মুকলের জন্য ওষুধ। বিগত বছরগুলোতে এ সময় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করতেন চাষিরা। এবারে বাগানগুলোতে সুনসান নীরবতা।
লিচু চাষিরা জানান, বাগানে ১০০ লিচু গাছ থাকলেও মাত্র ১০-২০টি গাছে মুকুল এসেছে। পরিমাণও অনেক কম। অতীতে এত কম মুকুল দেখা যায়নি। এ বছর কেন এমন হলো তারা বুঝতে পারছেন না। আবহাওয়ার কারণে এ বছর মুকুলের বিপর্যয় হতে পারে, তাদের ধারণা।
দাশুড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের লিচুচাষি স্বপন ম ল বলেন, আমার বয়সে এত কম লিচুর ফলন দেখিনি। এখানকার মানুষ লিচুর ওপর নির্ভরশীল। এবারে বছর চলাতে খুবই কষ্ট হবে। ১০ থেকে ২০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে, বাকি গাছে মুকুল নেই।
লিচু চাষে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আবদুল জলিল কিতাব বলেন, ৪৫ বছর ধরে লিচুর আবাদ করছি, এমন বিপর্যয় কখনো হয়নি। পুরো এলাকাতেই এ অবস্থা। এ বছর ১০ শতাংশ লিচুর ফলন পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তিনি আরও জানান, আমাদের এলাকায় লিচু চাষের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এরা এবারে সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হবেন। সরকারের এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান বলেন, লিচুগাছে সমানভাবে প্রতিবছর মুকুল আসে না। একবার বেশি এলে পরের বার একটু কম মুকুল আসে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই, জেনেটিক কারণে এরকম হতে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, এ বছরও গাছে মুকুল এসেছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় মুকুলের পরিমাণ কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে বলে অনুমান করছি। দেশে লিচু চাষের জন্য ঈশ্বরদী বিখ্যাত। গত বছর ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে।