বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর বলেছেন, দীর্ঘ সতেরো বছর শুধু লুটপাট হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কোনো কিছুই হয়নি। মানিকগঞ্জ জেলার সবচেয়ে ব্যবসাবান্ধব উপজেলা ছিল ঘিওর। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করতে পারলেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে স্থায়ীভাবে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলেই আর কেউ ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারণা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা বাজার প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি এস এ জিন্নাহ কবীর ৩১ দফা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সদস্য হাবিবুল্লাহ নোমানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পয়লা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ।
পয়লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত ৩১ দফা প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথি জিন্নাহ কবীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এর বাস্তবায়ন হলে ধনী-গরিব, কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর সবাই উপকৃত হবেন। পয়লা বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো পাকা রাস্তা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ইউনিয়নের কোনো সমস্যা থাকবে না। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষক ও গ্রামে বাস করেন। অনেক গবেষণা করে তারেক রহমান ৩১ দফায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন কৃষকদের। কাজেই কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের মধ্যে ডিজিটাল কার্ড দেওয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে পাবেন। সেই সঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করতে হবে না। ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না। বিদেশে টাকা পাচার হবে না। নদীর বালু লুট হবে না। আপনারাই হবেন সাধারণ মানুষের ভ্যানগার্ড। অধিকার-বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে আপনারা তাদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবেন। আগামী নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তারেক জিয়ার হাত শক্তিশালী হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।