রাজধানীর নয়াপল্টনে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালে কাকরাইল ও আশপাশ এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশের সম্পৃক্ততা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। আদালত বলেন, ২৮ তারিখে পুলিশের সম্পৃক্ততা ছিল আমরা টেলিভিশনে দেখেছি। গতকাল যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক এডিসি শাহেন শাহের রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ মন্তব্য করেন। শুনানি শেষে আদালত শাহেন শাহকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
শুনানিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ ও শাহেন শাহ রমনার দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপির এ আন্দোলন বানচালের জন্য পরিকল্পনা করেন তাঁরা। পরে তাঁদের সহায়তায় মেয়র জাহাঙ্গীর বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি চালান।
তিনি বলেন, বিএনপি যেদিন সমাবেশ ডাকত সেদিন আওয়ামী লীগও একটা ‘শান্তি সমাবেশ’-এর ডাক দিত। কিন্তু তাদের হাতে থাকত অস্ত্র। আর এতে হারুন, শাহেন শাহের নির্দেশে সহায়তা করত পুলিশ বাহিনী।
প্রসঙ্গত, যুবদল নেতা শামীম নিহতের ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। শাহেন শাহ এ মামলার ৪৯ নম্বর আসামি।
এ ছাড়া ভাটারা থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক সোহাগ মিয়া হত্যা মামলায় ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে, মিরপুর থানার আসিফ হত্যা মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তেজগাঁও থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা আক্তারকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর বিভিন্ন থানার হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাদেক খান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি ও মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাইমুল ইসলাম রাসেল। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর মধ্যে আদাবর থানার হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন, খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় সাদেক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া রামপুরা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতি ও মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় মো. নাইমুল ইসলাম রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।