এ বি এম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশনের আজীবন সম্মাননা পেলেন বাসসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীণ সাংবাদিক আমান উল্লাহ।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘আজীবন সম্মাননা প্রদান ও স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্মারক বক্তৃতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, সাহিত্য একক ব্যক্তির কাজ, নিভৃত সাধনার বিষয়। বিপরীতে সাংবাদিকতা হচ্ছে সামষ্টিক উদ্যোগ। গণমাধ্যমের মূল মন্ত্র ‘আমি’ নয় ‘আমরা’। এটি একটি টিমওয়ার্ক।
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ বি এম মূসার ৯৪তম এবং নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত সেতারা মূসার ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আমান উল্লাহকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এ বি এম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মরিয়ম সুলতানা মূসা রুমা।
‘সাহিত্য ও সাংবাদিকতার আন্তঃসম্পর্ক’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় হাসান হাফিজ বলেন, সাহিত্য চিরকালীন, সাংবাদিকতা তাৎক্ষণিক।
সাহিত্য কালজয়ী, অন্যদিকে সাংবাদিকতা কাজ করে সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি, তার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও প্রভাব সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে। সাহিত্যের যে আবেদন, তার যে সৌকুমার্য ও নান্দনিকতা তথা সৌরভ, সেটা মানবমনে দাগ কাটে। গভীর সূক্ষ্ম আলোড়ন তোলে মনের পটে, তা একপ্রকার স্থায়ী আসন করে নিতে সমর্থ হয়। তিনি বলেন, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মধ্যে মিল যেমন আছে, অমিলও রয়েছে।
সহজেই অনুমেয়, সাহিত্যের উন্মেষ ঘটেছে আগে। সাংবাদিকতার বিকাশ পরবর্তীকালের ঘটনা। মানুষ যখন লেখাপড়া শেখেনি, কাগজ-মুদ্রণশিল্পের উদ্ভব ঘটেনি, তখনো সাহিত্য ছিল।
হাসান হাফিজ বলেন, একজন রিপোর্টার চাঞ্চল্যকর, জনগুরুত্বসম্পন্ন কোনো ব্রেকিং নিউজ পেয়ে গেলেও এককভাবে সেটা শ্রোতা-দর্শক-পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারেন না। তাঁকে নির্ভরশীল হতে হয় সম্পাদনার টেবিল, ছাপা বা ব্রডকাস্টিংয়ে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর।
সাহিত্য হচ্ছে সৃষ্টিশীল কাজ-কবি বা লেখকের নিভৃত সাধনার বিষয়। তাকেও পাঠক-শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে হলে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। সাংবাদিক যে তথ্যসংবলিত রিপোর্টটি তাঁর টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রাণপাত পরিশ্রম করে থাকেন, সেই তথ্য কিন্তু একাধিক সাংবাদিকেরও করতলগত হতে পারে। কিন্তু সাহিত্য হচ্ছে মৌলিক বিষয়, সেটি লেখকের মস্তিষ্ক ও মননজাত পণ্য। সেখানে তিনি একক।
তিনি বলেন, এখন সাংবাদিকতায় শৈথিল্য এসেছে। অনেক রিপোর্ট, এমনকি সম্পাদকীয়তেও ভাষাগত ভুল পাওয়া যায়। ভাষাগত অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতা লেখাকে অস্বচ্ছ করে। ভালো সাংবাদিক তাঁর লেখার জন্য পাঠকের হৃদয় জয় করে নেন।