চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে ৫ দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসক কাউন্সিলের আহ্বানে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। একই সঙ্গে পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ক্লাস বর্জন করছেন চমেক শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, চমেক হাসপাতাল অনেকটাই ইন্টার্ন চিকিৎসক নির্ভর। দুই হাজার ২০০ শয্যার চমেক হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকে। এসব রোগীর চিকিৎসায় বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৮০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক পালাক্রমে অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এখন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে ইন্টার্নরা কর্মবিরতি শুরু করার পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী চিকিৎসকদের সঙ্গে উচ্চতর কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকরাও কাজ করছেন। এরপরও বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট।
মেডিসিন বিভাগের এক রোগীর স্বজন জসিম উদ্দিন বলেন, 'এমনিতেই একটা রোগীর কাছে একজন চিকিৎসক আনতে কষ্ট হয়ে যায়। তার ওপর এখন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাই চিকিৎসা পেতে আমাদের কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।'
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- বিএমডিসির নিবন্ধন কেবল এমবিবিএস/বিডিএস উত্তীর্ণদের দেওয়া, ম্যাটসদের নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ করা এবং বিএমডিসির আইনের বিরুদ্ধে করা রিট মামলা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। এমবিবিএস/বিডিএস ছাড়া আর কেউ ওটিসি তালিকার বাইরে ওষুধ লিখতে পারবে না। স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রæত ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে শূন্য পদ পূরণ, চিকিৎসকদের বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে। সব ধরনের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এবং মানহীন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ বন্ধ করে দিতে হবে। এরই মধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদবি বাতিল করে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা