শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি (এফইটি) বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের নাম পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না বলেও জানিয়েছেন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।
গত ৫ মার্চ মানববন্ধন শেষে ৬ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করেছেন, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান রয়েছে। এতে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত হয়ে গেছে।
বিভাগের নাম থেকে ‘চা প্রযুক্তি’ অংশটি বাদ দিয়ে ‘খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি’ রাখার দাবিতে দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরির সার্কুলারগুলো ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ের ওপর আসে। কিন্তু বিভাগের নাম ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলোজি’ হওয়ার কারণে এই ধরনের সার্কুলারের আওতায় পড়ে না। যার ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রেও নামের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেন ফাহাদ বলেন, ‘আমাদের পাঠ্যক্রমের ৯০ শতাংশের বেশি খাদ্য প্রকৌশল সম্পর্কিত হলেও বিভাগের নামের অর্ধেকজুড়ে রয়েছে ‘চা প্রযুক্তি’। ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদন কিংবা দেশের চাকরির বাজারে আমাদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রির তুলনায় আমাদের ডিগ্রি কম অগ্রাধিকার পাচ্ছে, যা আমাদের ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
এ বিষয়ে খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০তম একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিভাগের পাঠ্যসূচি পর্যালোচনা করে দেখবে, ‘চা প্রযুক্তি’কে আলাদা বিভাগ হিসেবে খোলা সম্ভব কি না এবং এ বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠাবে।’
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত