দীর্ঘদিনের সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে অবশেষে সচ্ছলতার যন্ত্র বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন শিমা আকতার। বেঁচে থাকার অবলম্বনটি হাতে পেয়ে আনন্দের কান্নায় দুচোখ ভিজে আসে তাঁর। দুহাত তুলে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের জন্য দোয়া করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করা অবস্থায় মা-বাবা তাঁকে বিয়ে দেন।
অভাবের সংসারে মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগান দিতে না পেরে আগেই বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পার হতেই সংসারজীবনে নেমে আসে অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো মেঘ। স্বামী ছিলেন বেকার। কাজকর্ম কিছুই করতেন না।
টাকার জন্য সব সময় অত্যাচার করতেন। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন তাঁর স্বামী। কিস্তি দেওয়ার সময় হলে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মারধর করতেন। স্বামীর এমন অত্যাচার তাঁকে প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হতো।
স্বামীকে খুশি করতে বাবার অভাবের সংসার থেকে সব কিছু বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন শিমা। তার পরও স্বামী তাঁকে অবহেলা করতেন। এক পর্যায়ে শিমাকে স্বামী-শাশুড়ি মিলে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ১৯ বছর বয়সী শিমার একটি ছেলেসন্তান আছে। ছেলেকে নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি।
স্বামী একবারের জন্য স্ত্রী-সন্তানের খবর নেন না। বাবার অভাবের সংসারে বাড়তি আরো দুজনের খরচ চালানো দায়। শিমা চিন্তা করেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন। শিমা আকতার বলেন, ‘আমার দুঃখের সময় পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তারা আমাকে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। এটি এখন আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছোট সন্তানকে বড় করতে পারব। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সবাই যেন সব সময় ভালো থাকেন।’