মেরিন ফেসিয়াল কী?
গত কয়েক বছর রূপচর্চার জগতে সমুদ্রজাত উপাদান বেশ জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেছে। ক্রিম, ফেসপ্যাক, স্ক্রাব তথা ফেসওয়াশে আজকাল সামুদ্রিক উপাদানের ছড়াছড়ি। আর সেই সূত্র ধরেই এসেছে মেরিন ফেসিয়াল।
সাধারণ স্কিনকেয়ার পণ্যের তুলনায় ফেসিয়াল ত্বকের অনেক গভীরে গিয়ে কাজ করে। ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। ফেসিয়াল যেহেতু বেশ সময়সাপেক্ষ তাই এর উপকারিতাও সাধারণ স্কিনকেয়ার রেজিমের থেকে অনেকটাই বেশি। এই ফেসিয়ালের প্রতিটি ধাপেই সমুদ্রজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। এক কথায়, নির্জীব, রুক্ষ ত্বকের জিয়নকাঠি এই মেরিন ফেসিয়াল।
ত্বকের সব ধরনের সমস্যায় একাধিক মেরিন ফেসিয়াল রয়েছে। তবে প্রতিটি ফেসিয়ালেরই প্রধান কাজ ত্বকে আর্দ্রতা ঠিক রাখা। আসলে সমুদ্রের নোনা পানি আমাদের স্কিনের ব্যারিয়ার মজবুত করে। এতে ত্বক সহজে আর্দ্রতা হারায় না। ফলস্বরূপ ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং কোমলতা বজায় থাকে। সামুদ্রিক অ্যালগি এবং সি-উইডে প্রায় সব ধরনের ভিটামিন আছে। সেই সঙ্গে রয়েছে জিঙ্ক, পটাশিয়াম, আয়রনের মতো খনিজ, যা ত্বকীয় কোষ সজীব রাখতে আবশ্যক। উপাদান ছাড়াও এই ফেসিয়ালের অন্যতম বিশেষত্ব এর ম্যাসাজিং পদ্ধতি। এই ম্যাসাজ মাসল টেনশন কমিয়ে ত্বকের পেশি রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। এতে ত্বক মসৃণ, তরতাজা এবং যৌবনোচ্ছ্বল থাকে।
০১. সোর্স মেরিন ফেসিয়াল : ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে আদর্শ এই সোর্স মেরিন ফেসিয়াল। শুষ্ক ত্বকের জন্য এই ফেসিয়াল খুবই উপকারী। মূলত তিনভাবে এই ফেসিয়াল ত্বকের উপকার করে। এটি ত্বকের জল শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে ত্বক পরিবেশ থেকে বেশিমাত্রায় আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। পাশাপাশি এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
০২. অ্যালগি মেরিন ফেসিয়াল : এই ফেসিয়ালের প্রতিটি উপকরণেই রয়েছে সামুদ্রিক বিভিন্ন জীবের নির্যাস। তিন ধরনের সামুদ্রিক অ্যালগির মিশ্রণে তৈরি হয় এই মাস্ক। পাশাপাশি রয়েছে সি-উইড, যা ত্বকের মিনারেল ব্যালেন্স করে এবং ত্বকের পুনরুজ্জীবনে সাহায্য করে। তবে প্রথমে ব্যবহার করা হয় সামুদ্রিক নির্যাসযুক্ত অ্যাকোয়াটিক এসেন্স এবং মেরিন মিস্ট। যাতে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরে আসে। এরপর বিশেষ ম্যাসাজ পদ্ধতি ও ক্লিনজারের সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করে এক্সফোলিয়েট করে নেওয়া হয়। পরে টোনার ও ট্রিটমেন্ট জেল ব্যবহার করা হয়। এরপর সি-উইডযুক্ত মাস্ক।