আজকাল সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে সংস্কৃতিতে দুটি চরম অবস্থানের দোলাচল দেখা যায়। আমরা হয়তো ‘সার্জারি করানোকে স্বাভাবিক’ করে নিচ্ছি, নয়তো ‘একটি শিল্প যা আত্ম-অবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে’ এই বলে আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি
আসল ইস্যুটি কী?
জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে কাপুর বলেন, ‘সমস্যাটি তখন হয় যখন কেউ কসমেটিক সার্জারি করিয়ে দাবি করে ‘আমি এমনই জন্মেছি, আমি ন্যাচারাল’। এতে অবাস্তব সৌন্দর্যের মান তৈরি হয়। এটা অন্যদের জন্য, বিশেষত তরুণীদের জন্য খুবই অন্যায্য। যারা তাদের দেখে ভাবতে থাকে- ‘আমি কেন এমন হই না?’ কিন্তু তারা জানে না যে, এর পেছনে কত প্রচেষ্টা- একটি টিম, ফেসিয়াল, স্কিন কেয়ার ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি।’
কেন এত আলোচনা?
খুশি কাপুরের সাক্ষাৎকার থেকেই আমি ‘ন্যানো-ব্লেডিং’ নামের এক ধরনের ভ্রু পরিবর্তন পদ্ধতির কথা জানতে পারি। আমি তখনই ভাবলাম, ‘এই পদ্ধতিটি কি আমার জন্য নিরাপদ?’ অথচ আমি প্লাস্টিক সার্জারির বিরুদ্ধে ছিলাম এবং আমার নিজের ভ্রুর আকৃতিও পছন্দ করি! তাহলে আমি কেন এত সহজেই এই চিন্তায় আটকে গেলাম? কারণ, সত্য হলো- খুব কম মানুষই এই ‘প্রচার’ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। আসলে অনেকের পেশায় সৌন্দর্যের প্রভাব কম। কিন্তু কাপুরের মতো যাদের ক্যারিয়ার জনসমক্ষে উপস্থিত থাকার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য প্লাস্টিক সার্জারি পেশাগত বিনিয়োগ। তবে ‘সাধারণ’ মানুষের জন্য এটি কী? আত্মপ্রেম? অনিরাপত্তার অনুভূতি?
সৌন্দর্যের আকাঙ্ক্ষা- মুক্তি, নাকি একটি নতুন শৃঙ্খল?
এর উত্তর অজানা। আমরা যারা ২০-এর শেষভাগে থাকা নারী- তারা দেখছি কীভাবে প্লাস্টিক সার্জারি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। যা সৌন্দর্যের ধারণা নিয়ে ভাবায়। নিজের প্রতিও নতুন দৃষ্টিপাতে বাধ্য করে। প্রতিটি নতুন ভাইরাল ট্রিটমেন্ট, নতুন সেলিব্রেটির স্বীকারোক্তি, চারপাশের মানুষের প্লাস্টিক সার্জারি- কেবল ভাবায়, ‘আমরা কি কেবল ‘সুন্দর’ নই, নাকি কেবল ‘নিখুঁত’ হতে চাইছি?
এবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এসেছে। আমাদের সবারই বোঝা উচিত, আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে ‘নিখুঁত’ দেখানোর আকাঙ্ক্ষায় প্রভাবিত। আর শারীরিক সৌন্দর্য কেবল একটি দিক, আত্ম-সন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাসই আসল সৌন্দর্যের ভিত্তি।
তথ্যসূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস