তৃষ্ণার সংকেত শুনুন, এটি আপনার শরীরের প্রাকৃতিক উপায়ে হাইড্রেশনের প্রয়োজনীয়তা জানানোর মাধ্যম
‘ডিহাইড্রেশন’ চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের তরল পদার্থ মারাত্মকভাবে কমে যায়; যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং কখনো কখনো এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। গ্রীষ্মকালে শরীরে ডিহাইড্রেশন সহজে বোঝা গেলেও শীতকালে ডিহাইড্রেশনের অভিজ্ঞতা অস্বাভাবিক নয়। ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও পুষ্টিবিদ গুঞ্জন তানেজা প্রতিদিন ‘২ ঘণ্টার হাইড্রেশন রুল’ মেনে চলার পরামর্শ দেন। এখানে তিনি দুই ঘণ্টা পর এক গ্লাস পানি পান করার প্রতি উৎসাহিত করেন। তার যুক্তি হলো- যদি আপনি দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমান, তবে আপনি ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকেন। প্রতি দুই ঘণ্টা পর এক গ্লাস পানি পান করলে দিনে মোট ৮ গ্লাস পানি করলেন, যা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে আদর্শ।
লর্ড’স মার্ক বায়োটেকের পুষ্টিবিদ সাঞ্চি তিওয়ারি বলেন, ‘ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ বোঝার সর্বোত্তম উপায় হলো- শরীরের কথা শোনা। অর্থাৎ তৃষ্ণার সংকেত বোঝা, এটি শরীরের হাইড্রেশন প্রয়োজনীয়তার স্বাভাবিক উপায়।’ যদিও ডিহাইড্রেশন বিপজ্জনক, তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ নামে পরিচিত। তিওয়ারি আরও বলেন, অতিরিক্ত পানি শরীরের সমস্ত ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করে ফেলে এবং হার্ট রেটের সমস্যার কারণ হতে পারে। তার ভাষ্য, একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। কেননা, প্রত্যেকের শরীর ভিন্ন এবং প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণও ব্যক্তি ভেদে আলাদা। তাই আপনি তৃষ্ণা অনুভব করলে পানি পান করুন, কারণ এটি শরীরের সংকেত। শরীর পানির প্রয়োজন অনুভব করে।
শীতকালে ডিহাইড্রেশন মোকাবিলার উপায়
* হট চকলেট, হার্বাল চা বা উষ্ণ লেবুর পানির মতো পানীয় পান করুন, যা আপনাকে হাইড্রেটেড এবং আরামদায়ক রাখবে।
* এমন তাজা ফল এবং সবজি খান যেগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি। মৌসুমি শীতকালীন ফল এবং উচ্চ তরলযুক্ত সবজি খাওয়া আবশ্যক।
* শীতকালকে উষ্ণ সুপের সঙ্গে যুক্ত করুন, এমনকি আপনি পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও।
* ডিহাইড্রেটিং পানীয় এড়িয়ে চলুন। এতে আছে অ্যালকোহলিক ড্রিঙ্ক এবং ক্যাফেইন- যা গরম অনুভব এবং আবহাওয়ার জন্য পারফেক্ট মনে হলেও আসলে ডিহাইড্রেটিং এজেন্ট।
তথ্যসূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস