আজকাল ‘রোবট’ আর কল্পবিজ্ঞানের কোনো কাল্পনিক দৃশ্য নয়। এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সহায়ক অঙ্গ হয়ে উঠছে, বিশেষত যখন পরিবারের যতেœর কথা আসে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোবটকে এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে, যাতে ঘরবাড়ির কাজ থেকে শুরু করে মানসিকভাবেও সাহায্য করতে পারে এরা।
ব্যক্তিগত হোম কেয়ার হচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তির অনন্য চাহিদা পূরণের বিষয়ে। রোবট অভিযোজিত ও স্মার্ট হওয়ার মাধ্যমে এতে বড় ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ। ২০২২ সালে জাপানে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন রোবট নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন গবেষকরা, যা বয়স্কদের হাঁটতে অসুবিধার হলে তাদের শারীরিক সহায়তা দিতে পারে। তাদের পড়ে যাওয়া ঠেকাতে সেন্সর দিয়ে কাজ এসব রোবট এবং ব্যবহারকারীর চাহিদার উপর ভিত্তি করে তাদের সহায়তা দেয়। মানুষের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্যও রোবটের ব্যবহার হচ্ছে, যা জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আরামদায়ক করে তুলেছে। এরই মধ্যে বাড়িতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ও মপের মতো রোবট। নতুন ধরনের রোবটও তৈরি হচ্ছে, যেগুলো খাবার তৈরি, কাপড় ভাঁজ ও ঘরের অন্যান্য কাজও করতে পারে। ২০২৩ সালে রান্নার কাজে সহায়তার জন্য ডিজাইন করা এক রোবট চালু করেছিলেন জার্মানির গবেষকরা। রোবটটি বিভিন্ন রান্নার রেসিপি অনুসরণ করে রান্না করতে, সবজি কাটতে ও তা পরিষ্কারও করতে পারে। এমনকি ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় দেখা গেছে, রোবোটিক পোষা প্রাণীর সঙ্গে ছিলেন এমন বয়স্ক ব্যক্তিরা একাকীত্বের অনুভূতি কমার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়েছে। তাছাড়া রোবটগুলোর মাধ্যমে অসুস্থ রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য-পর্যবেক্ষণ, এমনকি নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ব্যবহার করেন গবেষকরা। এখানেই শেষ নয়, রোবোটিক সহকারীদের মতো বিভিন্ন ডিভাইস দেহের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ ট্র্যাক, স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ শনাক্ত ও কিছু ভুল হলে তা ডাক্তারদের জানাতে পারে।