শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে তিমিদের গান করা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপ্রাপ্তির ওপর নির্ভর করেই তিমির গানের মাত্রা কমে বা বেড়ে যেতে পারে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই গবেষণাটি তিমির অন্যতম প্রধান খাদ্য অনুসন্ধান ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত হয়। গবেষকরা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তিমির গান এবং তাদের খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করেন।
তিমিরা প্রতিবছর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই অঞ্চলে আসে। কারণ, তারা শীতকালীন প্রজনন মৌসুমে খাবার না খেয়ে কাটায়। ফলে, শীত ও বসন্তে তারা প্রচুর খাদ্য সংগ্রহ করে শরীরে চর্বি জমিয়ে শক্তি সংরক্ষণ করে। তিমির খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের হয়—নীল তিমি শুধু ক্রিল (ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী) খায়, অন্যদিকে হাম্পব্যাক তিমি ক্রিল ও ছোট মাছ যেমন অ্যাঙ্কোভি খেতে পারে।
গবেষকরা লক্ষ্য করেন, ২০১৫ সালে সমুদ্রের উষ্ণ প্রবাহের কারণে খাদ্যের প্রাচুর্য কমে যায়, যার ফলে তিমিদের গানও কমে যায়। তবে, পরবর্তী দুই বছরে খাদ্যসংস্থান বাড়লে তিমির গানও বেড়ে যায়। বিশেষত, হাম্পব্যাক তিমির গানের মাত্রা ৫০ বছরে সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছায়। কারণ, ওই সময় অ্যাঙ্কোভির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিপরীতে, নীল তিমির গানের হার কমে যায়, কারণ তাদের প্রধান খাদ্য ক্রিলের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।
গবেষকরা সমুদ্রের শব্দতরঙ্গ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে তিমির গানের ধরণ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা হাম্পব্যাক তিমির গতিবিধি, খাদ্যাভ্যাস এবং মাইগ্রেশন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেন। গবেষণার প্রধান অনুসন্ধান অনুযায়ী, তিমির গান শুধু তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি খাদ্য পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ভবিষ্যৎ সমুদ্র গবেষণায় গুরুত্ব
এই গবেষণা বৈশ্বিক উষ্ণতা ও মানবসৃষ্ট পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে, হাম্পব্যাক তিমির অভিযোজন ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক প্রতিবেশ রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, সমুদ্রের শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল