ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল। সংস্থাটি তাদের শততম রকেট উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করল। এই অভিযানে নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-02 কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে Geosynchronous Satellite Launch Vehicle (GSLV-F15) রকেটটি উৎক্ষেপিত হয়। এটি ছিল চলতি বছরের ইসরোর প্রথম মহাকাশ অভিযান। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রকেটটি নিখুঁতভাবে উপগ্রহটিকে নির্ধারিত Geostationary Transfer Orbit (GTO)-তে স্থাপন করে।
এই অভিযানটি ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণনের অধীনে প্রথম সফল উৎক্ষেপণ। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা পর, ইসরো তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বের নাম টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে এক মিনিট দীর্ঘ অনবোর্ড ফুটেজ প্রকাশ করে। ক্যাপশনে লেখা হয় – ‘অন্যরকম এক দৃশ্য! ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি অব্যাহতভাবে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’
GSLV-F15 রকেটটি ইসরোর জন্য একসময় বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। অতীতে ১৬টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ৬টি ব্যর্থ হওয়ায়, এর ব্যর্থতার হার ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর ফলে এটি একসময় ‘নটি বয়’ নামে পরিচিতি পায়। তবে, একই পরিবারের Launch Vehicle Mark-3 (Bahubali Rocket) সম্পূর্ণ সফল হয়ে উঠেছে।
এই রকেটই ভারতের ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের সাক্ষী। আমেরিকার চাপে রাশিয়া ভারতকে এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে, ভারত নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে দুই দশকের প্রচেষ্টায় এটি অর্জন করে।
GSLV-F15 উৎক্ষেপণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
• এটি GSLV-এর ১৭তম ফ্লাইট এবং ১১তম ইন্ডিজেনাস ক্রায়োস্টেজ ফ্লাইট।
• ৮ম অপারেশনাল ফ্লাইট, যেখানে সম্পূর্ণ দেশীয় ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
• এটি শ্রীহরিকোটা স্পেসপোর্ট থেকে ইসরোর ১০০তম উৎক্ষেপণ।
• এই রকেটের পেলোড ফেয়ারিং একটি ধাতব (metallic) কাঠামো দিয়ে তৈরি, যার ব্যাস ৩.৪ মিটার।
ইসরোর এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল