পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রেজাউল করিম শাহ। বয়স ৬৫ বছর। কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই মুখে শুধু পানপাতাসহ যে কোনো পাতা দিয়ে তোলেন গানের সুর। এ ছাড়া সৈকতে ছোট্ট একটি চায়ের দোকানে বসে আপন মনে গেয়ে যান নিজের স্বরচিত গান। তাঁর সুরের জাদুতে ছুটে আসে সংগীতপ্রিয় পর্যটকরা। তাঁর গানের তালিকায় রয়েছে ‘আমায় থুইয়া নিঠুর বন্ধু ক্যামনে রইলা বৈদ্যাশে, তোমার লাইগা প্রাণ কাঁদে রইতে নারি ঘরে’ অথবা ‘চল বন্ধু চল যাই কুয়াকাটা ঘুইরা আই সাগরকন্যা কুয়াকাটা চল ঘুইরা আই’ এ রকম বহু গান। পর্যটক ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, মানুষের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন সুস্থ পরিচর্যা। বাউল রেজাউল করিমের মতো অনেক প্রতিভাবান অবহেলিত রয়েছেন। জানা যায়, লালন ভক্ত রেজাউল করিম শাহ পেশায় একজন চা দোকানি। তিনি পানপাতা দিয়ে বিভিন্ন গানের সুর তুলে যে কাউকে চমকে দিতে পারেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরই একের পর এক তার স্বরচিত গানের সঙ্গে কেউ কেউ দোকানটিতে থাকা টেবিল, লজেন্সের বাটা কিংবা পানির জগ চাপড়ে তাল ধরছেন। এসব দৃশ্য অনেকেই হাতে থাকা স্মাটফোনের ক্যামেরায় বন্দি করেছেন। নিজেই কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, পাতার বাঁশিবাদক, যাত্রাপালার কুশীলব ও লাঠি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত রেজাউল করিম শাহ। সাগরপাড়ে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর একাডেমিতে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে শিক্ষকতার কাজ করেছেন। লালনভক্ত রেজাউল করিম শাহ বলেন, ‘ছোট বয়সেই তিনি যাত্রা, অভিনয়ের পরিচর্যা করতেন। শ্রোতাদের দেওয়া সব অনুপ্রেরণা নিয়ে এ পর্যন্ত নিজের লেখা গানের সংখ্যা কয়েক শ। যেটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করছি, তা নিজের ইচ্ছায়।’
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গান করার ডাক পান বলে তিনি জানান। কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জনি আলমগীর জানান, কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমরা যে প্রোগ্রামগুলো করে থাকি, সব জায়গাতে পাতার সুর তুলে মানুষের মন কেড়ে নেন তিনি। কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক হোসাইন আমির বলেন, কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠী এবং স্থানীয় শুভাকাক্সক্ষীরা তাঁকে সহযোগিতা করে থাকেন।