ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকার ওয়াহিদ হাসান বাণিজ্যিকভাবে কুমড়াবড়ি তৈরির কারখানা করে সাড়া ফেলেছেন, হয়েছেন স্বাবলম্বী। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এলাকার মহিলাদের। তার কুমড়াবড়ির কারখানায় প্রায় ৩০ জন নারী কর্মরত। তারা নিজেদের সংসারে কাজ করার পাশাপাশি বড়ি তৈরির কারখানাতে কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। ওয়াহিদ হাসানের কারখানার সুস্বাদু এই বড়ি অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছেন তিনি। জানা গেছে, একসময় সুস্বাদু কুমড়াবড়ি তৈরি করা হতো ঢেঁকিতে কুটে। এরপর তা নিপুণ হাতে তৈরি করা হতো। কিন্তু সময় পাল্টে গেছে। ঢেঁকির পরিবর্তে তৈরি হয়েছে যন্ত্র। এরই অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের এ যুবক গড়ে তুলেছেন কারখানা। এ কারখানায় প্রতিদিন ভোরে শুরু হয় কুমড়াবড়ি তৈরির কর্মযজ্ঞ। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হয় বিধায় এই বড়ি তৈরিতে নেওয়া হয় আধুনিক মেশিনের সাহায্য। কুমড়াবড়ি তৈরির জন্য আগের রাতেই পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় মাষ কলাইয়ের ডাল। পরদিন ভোরে ভেজা ডালের সঙ্গে কুচি করে রাখা কুমড়া এক সঙ্গে মেশিনে পেস্ট করা হয়। গ্রামের একদল নারী নিপুণ হাতে নেটের ওপর কুমড়াবড়ির খামির বড়ি আকারে বসিয়ে দেন। পরবর্তীতে তা ৩-৪ দিন ভালো করে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় বড়ি। সবশেষ শুকনা বড়িগুলো কার্টন ভর্তি করে পাইকারি খুচরা দরে বিক্রি করা হয় ঝিনাইদহ আশপাশের জেলাগুলোতে। তার কারখানায় প্রতিদিন ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে ১০ মণ বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। যা থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। প্রতি কেজি কুমড়াবড়ি বিক্রি হয় ৩০০ টাকা। কারখানায় কর্মরত আলেয়া খাতুন জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বাড়ির পাশে হওয়ায় আসতে ও যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। কেউ পান ১৫০ আবার কেউ পান ৩০০ টাকা। কমলা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা প্রায় ৩০ জন নারী দৈনিক মজুরিতে কাজ করি। কাজের ওপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক ধার্য করা হয়। কাজ করি ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আমাদের সংসারেও কোনো সমস্যা হয় না। আরও বাড়তি আয় হওয়ায় পরিবারও খুশি। আগামী তিন মাস চলবে এ বড়ি তৈরির কাজ। উদ্যোক্তা ওয়াহিদ হাসান বলেন, ‘ঢাকা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যবসায়ের পাশাপাশি কুমড়াবড়ি তৈরির কারখানা করেছি। প্রায় ছয় বছর হলো এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারা দেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডারও পাচ্ছি। সে অনুযায়ী ডেলিভারি করে থাকি। স্থানীয় বাজারগুলোতেও এ বড়ির চাহিদা ভালো। যা থেকে প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ হয়। প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি বিক্রি করি ৩০০ টাকা। আশা করছি আগামী বছর বড়ি তৈরি বৃদ্ধি করব।’ এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, ‘বাণিজ্যিকভাবে কুমড়াবড়ি তৈরি হওয়ায় সবাই এখন এ সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে পারছেন। শিক্ষিত এ যুবক নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনেক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। আমরা কারিগরি সহায়তাসহ কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা রকম পরামর্শ দিয়ে আসছি।’
শিরোনাম
- শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়ছেন ইলন মাস্ক, ঘনিষ্ঠদের বলেছেন ট্রাম্প
- এশিয়ার কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প?
- ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমলো ৪.৪১ শতাংশ
- হঠাৎ উত্তপ্ত সিলেট: আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বাসায় হামলা
- একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩ এপ্রিল)
- নিখোঁজ প্রতিবন্ধীর লাশ মিললো ডোবায়
- টুঙ্গিপাড়ায় মাহেন্দ্র-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
- জমি নিয়ে বিরোধে বোনের হাতে প্রাণ হারালো ভাই
- চাঁদপুরে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
- ঈদের তৃতীয় দিনে দেড় লাখ দর্শনার্থীতে মুখর চিড়িয়াখানা
- উত্তেজনা বাড়িয়ে ভারত মহাসাগরে ৬টি বোমারু বিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
- ১১ জনের খেলায় ১২ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান করে বিশ্বরেকর্ড!
- কোস্টারিকার নোবেলজয়ী সাবেক প্রেসিডেন্টের মার্কিন ভিসা বাতিল
- রাজধানীতে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২
- নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ দিল ইতালি, যা রয়েছে নতুন আইনে
- ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা
- ট্রেনের ছাদে টিকটক করতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই যুবকের
- গাজায় এক মাস ধরে বন্ধ ত্রাণ প্রবেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা
- হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছে প্রসিকিউশন
- ইসরায়েলবিরোধী পোস্ট করলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসার আবেদন
ওয়াহিদের কুমড়াবড়ির কারখানা
♦ দিনে তৈরি করছেন ১০ মণ কুমড়াবড়ি ♦ অনলাইনে জমজমাট ব্যবসা ♦ হয়েছে নারীদের কর্মসংস্থান
শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ
প্রিন্ট ভার্সন

ওয়াহিদের কারখানায় প্রতিদিন ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে ১০ মণ বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। যা থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। শিক্ষিত এ যুবক নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনেক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন...
টপিক
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর