বাংলাদেশে বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বাস্তবায়নে সমর্থন করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। নবনিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুধু চালিয়ে যাওয়া নয়, আমরা তা আরও সম্প্রসারিত করব। জাপানি রাষ্ট্রদূত চলমান জাপান-অর্থায়িত বড় প্রকল্পগুলো, বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং তাঁর সরকার দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সত্যিই গর্বিত। জাপান বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার, যা বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৫০টির বেশি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে জাপান বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচটি রপ্তানি গন্তব্যের একটি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন জাপানসহ সার্ক ও আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি পূর্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করছে। তিনি বলেন, আমরা পশ্চিম এবং পূর্ব- উভয়ের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন ব্যবসা করার সময়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাদের নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।