পত্রিকা হতে হবে সাধারণ পাঠকের মনের মতো। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে ১৫ বছর অতিক্রম করল বাংলাদেশ প্রতিদিন। সারা দেশে প্রচার সংখ্যার দিক থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এই পত্রিকা শীর্ষে। নিঃসন্দেহে এখনো দেশের এক নম্বর পত্রিকা। এটি সম্ভব হয়েছে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে। দল-মত নির্বিশেষে সবার কথা বলছে বলেই বাংলাদেশ প্রতিদিন পাঠকের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আইয়ুব খান এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা আইয়ুব খান ১৯৯০ সাল থেকে সংবাদপত্র বিপণন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুরুতে নগরীর কেসি দে রোডের মেসার্স নিউজ অ্যাকাডেমির ম্যানেজার ছিলেন। পরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার হন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার পুরো ভার তার কাঁধে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই সমিতির অধীনে সারা দেশে কাজ করছেন প্রায় ৫ শ এজেন্ট ও ১২ হাজার হকার। চট্টগ্রামে তার প্রতিষ্ঠানে হকারের সংখ্যা প্রায় ৪ শ। মো. আইয়ুব খান বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নানা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অল্প জায়গায় বেশি সংবাদ। শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ শ্রেণি-পেশার পাঠকের হাতে পত্রিকাটি দেখা যায়। কারণ এটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। বড় পত্রিকা হওয়ায় এর কাছে পাঠকের প্রত্যাশাও বেশি। তাই পাঠকের কথা মাথায় রেখেই সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখতে হবে, যেমনটি সব সময় করে আসছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। তাহলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। অনলাইন প্রযুক্তির প্রভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে মুদ্রিত সংবাদপত্রের এক সময়কার সোনালি দিন এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে পারলে সুদিন ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন আইয়ুব খান। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা বলেন, নব্বই দশক সংবাদপত্রের স্বর্ণযুগ ছিল। একাধিক ফেরি পার হয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পত্রিকা আসত বেলা ২টা-৩টার দিকে। পাঠকরা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতেন, কখন হাতে পত্রিকা আসবে। একজন হকারকে ১০-১২ জন পাঠক ঘিরে ধরতেন পত্রিকার জন্য। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, বাজেট ঘোষণার দিন ও বছরের প্রথম দিন কাটতি থাকত বেশি। এসব বিশেষ দিনে পাঠকরা আগে বুকিং দিয়ে রাখতেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত ছাপা কাগজের রমরমা অবস্থা ছিল। মূলত এরপর ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলে কমতে শুরু করে। তরুণদের হাতে কাগজে ছাপা পত্রিকা কমই দেখা যায়। তারা অনলাইনে পড়ে ফেলছে। এখন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে ছাপা পত্রিকাকে।