রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বন্দিবিনিময়ের সম্ভাবনা আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মস্কো ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক আলোচনা উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে সহায়ক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পেসকভ। তিনি জানান, এই আলোচনার ফলে বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
রাশিয়ায় কারাবন্দি অন্তত ১০ মার্কিনি : বর্তমানে কমপক্ষে ১০ জন মার্কিন নাগরিক রাশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে ‘ভুলভাবে আটক’ বলে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মস্কো সম্প্রতি মার্কিন নাগরিক কালোব বায়ার্সকে মুক্তি দিয়েছে, যা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক কয়েকদিন আগেই ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্ক ফোগেল নামে এক মার্কিন স্কুলশিক্ষককে মুক্তি দেয় রাশিয়া। তিনি মস্কোর বিমানবন্দরে মারিজুয়ানাসহ গ্রেপ্তার হয়ে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ১৪ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত ছিলেন। বন্দি বিনিময়ের চুক্তির আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে রাশিয়া পেয়েছে আলেকজান্ডার ভিনিককে, যিনি একটি সাইবার অপরাধ চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত। গ্রিস থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দোষ স্বীকার করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নরওয়ে, সেøাভেনিয়া ও বেলারুসের মধ্যে আরও বড় পরিসরে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছিল।
সেই বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের’ সাংবাদিক ইভান গের্শকোভিচ। তিনি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, যদিও তিনি, তার সংবাদপত্র এবং মার্কিন সরকার এই অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে এসেছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক এই আলোচনাগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, বিশেষত যখন উভয় দেশ বিভিন্ন কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসানের জন্য যেকোনো আলোচনায় রাশিয়ার কার্যকর ক্ষমতা আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় তহবিল এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছে। মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে কিন্তু ট্রাম্প কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় সমর্থকদের বিচলিত করেছেন। তারা আশঙ্কা করছে যে, তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য শর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। বুধবার রাতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি রাশিয়ানরা যুদ্ধের অবসান দেখতে চায়... কিন্তু আমার মনে হয় তাদের কাছে কিছুটা দাবি-দাওয়া আছে, কারণ তারা অনেক অঞ্চল দখল করেছে। -এএফপি