ঢাকার পূর্বাচলে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে করা ছয়টি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুমোদনের পর মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে গতকাল আদালতে তা জমা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রথম কোনো দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। চার্জশিটে আসামির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ ও শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দুদক বলছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০২২ সালে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ১০ কাঠা করে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, তাঁদের সন্তানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করে সংস্থাটি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তা। সব আসামির বিরুদ্ধে পৃথক আটটি চার্জশিট অনুমোদন হয়েছে। এর আগে ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়েছিল। সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসদুদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও চার্জশিটের অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অন্য মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পুরাতন ১৪ আসামি হলেন ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিটে পৃথকভাবে তাঁদের অপরাধের ধরনও উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজের ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপান্তির নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোড থেকে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন অভিযোগে মামলা হয়। অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত ২৭ ডিসেম্বর জানিয়েছিল দুদক। দুদক গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। সবই অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।