মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা, দেশপ্রেমিক সেনানায়ক এবং দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার স্বাধীনতার ঘোষণা গোটা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল। যুদ্ধকালীন তার বীরত্ব ও দূরদর্শিতা মুক্তিযুদ্ধে জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এক দিনেই দেশ স্বাধীন হয়নি। দেশ স্বাধীন করতে দেশের আপামর মানুষ পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আমি তখন টকবকে যুবক। আমি শুরু থেকেই মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী ছিলাম। একবার মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলনে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল টাঙ্গাইল শহরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় আমাকেসহ ১৩ জন কৃষক নেতাকে গ্রেপ্তার করে সামরিক আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আমাদের ২১ দিন রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আমাকে ছয় বছরের কারাদ দেওয়া হয়। তার দুই দিন পরই আবার আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় দেশে যুদ্ধের ঢামাঢোল শুরু হয়ে গেছে। মওলনা আবদুল হামিদ খান ভাসানী হুজুর আমাকে বললেন, মোহন তোমার এখানে থাকার দরকার নেই। তিনি আমাকে চর এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। শাহজানী ক্যাম্পে চলে গেলাম। আমার সঙ্গে শুধু কয়েকটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল ও কয়েকজন সহযোদ্ধা ছিল। তাদের নিয়েই হাঁটতে শুরু করলাম। আমরা যখন যে এলাকায় যেতাম পাকসেনাদের মনোবল ভেঙে যেত। তাদের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর আতঙ্ক দেখা যেত। আমরা তাদের মনোবল ভাঙার কাজটাই বেশি করতাম। দেশ ও জাতিকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে হলে যুদ্ধে যেতেই হবে। যেই কথা সেই কাজ। ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম শত্রুর মোকাবিলা করতে।
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা