জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের ভাই এ টি এম আজহারুলকে মুক্তি দিলে একজন মজলুম মুক্তি পাবে। তাকে মুক্তি দিন, না হলে আমাকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান। গতকাল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পাশে এক পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকে প্রহসনের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। ওই প্রহসনের শিকার আজহারুল ইসলাম এখনো কারাগারে বন্দি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তাকে মুক্তি দিচ্ছে না সরকার। আজহারুল ইসলামের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পুরোপুরি মুক্তি পাবে না, তবে একজন মজলুম মুক্তি পাবে। বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হলে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জামায়াতের আমির বলেন, টানা সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ওপর জুলুম চলেছে। আমরা আন্দোলন করেছি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরানোর জন্য। আমরা রাজনীতিবিদরা তাদের সরাতে পারিনি। কিন্তু সেই সব কষ্ট দুঃখ যাতনা, জুলুম একত্রিত হয়ে যে শক্তি তৈরি হয়েছিল, আমাদের ছাত্রদের নেতৃত্বে সেই শক্তিতে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। আমাদের সেই সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি বলেন, আমি যুবকদের থেকে দুটি জিনিস চাই, একটি হচ্ছে- গভীর দেশপ্রেম, আরেকটি আল্লাহর প্রতি ভয়। এই দুটি জিনিস নিয়ে যুবকেরা এগিয়ে এলে তারাই হবে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হিমালয় পর্বত। এই পর্বত যে খসে দিতে আসবে, তার মাথা চুরমার হয়ে যাবে। শরীয়তপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জেলা আমির অধ্যক্ষ মুহা. আবদুর রব হাশেমী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। কাল পঞ্চগড় যাচ্ছেন জামায়াতের আমির : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, কাল বুধবার পঞ্চগড়ে আসছেন ডা. শফিকুর রহমান। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার কয়েক লাখ মানুষ জনসভায় অংশ নেবেন বলে আশা করেছেন স্থানীয় জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন। জনসভার সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতের পঞ্চগড় শাখা। লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ইকবাল জানান, আমিরে জামায়াতের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনসহ আমাদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দিয়ে জনসভা নিয়ন্ত্রণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।