বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হলো দেশবাসীকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া। আমরা প্রত্যাশা করি, যত দ্রুত সম্ভব তারা সেটা করবে। গতকাল দুপুরে যশোর জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহরের কেন্দ্রীয় ঈগদাহ মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয় সকাল ১০টায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির বিদায়ি আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এবারের কাউন্সিলে তাঁর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি তা থেকে সরে আসেন। বিদায়ি বক্তব্যে নার্গিস বেগম বলেন, ‘সামনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। তাদের নেতৃত্বে দল আরও শক্তিশালী হবে। আমি তাদের সাফল্য কামনা করি। বিএনপির দুর্দিনে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা। অন্ষ্ঠুান পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির বিদায়ি যুগ্ম আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে মাতৃভূমিকে পুনর্গঠন, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত করাই হবে বিএনপির প্রধান কাজ। আর এখনকার প্রধান কাজ হলো দল পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করা। ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব গ্রামে গ্রামে পেঁৗঁছে দেওয়া। ‘স্বৈরাচারী সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমরা সংস্কার প্রস্তাবের নামে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন কথা বলতে শুনছি। অবশ্যই যে যার মত প্রকাশ করতে পারেন। এখন ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা শুনছি। অনেকে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলছেন। এগুলো হয়তো প্রয়োজন। কিন্তু যখন স্বৈরাচারী শাসক দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা জোর করে দখল করে ছিল তখন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি ৩১ দফা প্রস্তাব এনেছে। তখন এসব সুন্দর সুন্দর কথা আমরা শুনিনি।’
তিনি বলেন, বিএনপির ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা। এই সম্মেলনে আগত প্রায় সব কাউন্সিলের নামে বহু মিথ্যা মামলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিএনপি এবং আরও কিছু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছে। অসংখ্য নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত, স্বৈরাচারের পতন হবে, তারা বিতাড়িত হবে।
অতীতে রাষ্ট্রপরিচালনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কাছে দেশ ও জনগণই প্রধান অগ্রাধিকার। বিএনপি যে কবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে। সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি। জনগণের সমর্থন নিয়ে আবার রাষ্ট্রপরিচালনার সুযোগ পেলে উৎপাদন বাড়ানো, শিক্ষাব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলা, নারীদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে মনোযোগ দেবে- যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নানা কাজের সমালোচনার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সমর্থন করে না- বিএনপি এমন কাজ না করার নীতিতে চলে। তা সত্ত্বেও লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মধ্যে কিছু লোক হয়তো এমন কিছু কাজ করছে, যা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা এই অন্যায়কারী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। যে কাজ সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’ সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে বিভ্রান্তের চেষ্টা করবেন না। অন্যায়ের ব্যাপারে বিএনপি তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।’ সকাল সাড়ে ১০টায় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। বক্তৃতায় আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, দেশে শিগগির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে।’
তিনি বলেন, সংকটকালে বিএনপি দেশের মানুষের পাশে থাকে। তাই বিএনপিকেই মানুষ সমর্থন দেয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। আসুন, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম করি।’
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যশোরের শতাধিক শহীদ পরিবারের মাঝে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়। স্ব-স্ব উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষে এই উপহার গ্রহণ করেন।
বেলা ২টায় যশোর ইনস্টিটিউটের আলমগীর সিদ্দিকী হলে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভাপতির একটি পদে তিনজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের তিনটি পদে চার নেতা প্রার্থী হয়েছেন।