রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মিরাজ হোসেন (২৫) ও মো. জুম্মন (২৬)। বুধবার মধ্যরাতে চাঁদ উদ্যান ৬ নম্বর রোডের আসাদুজ্জামান তালুকদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মিরাজ। তিনি চাঁদ উদ্যান এলাকার ৮ নম্বর রোডের সান্দামির বাড়ির ভাড়াটিয়া। শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের দেশভুয়াই গ্রামের আবদুল সাত্তারের ছেলে জুম্মন। তিনি চাঁদ উদ্যান এলাকার ৫ নম্বর রোডের হুজুরের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আটকরা হলেন ভোলার দুলারহাট থানার নীলকমল এলাকার আবদুর রবের ছেলে মো. হোসেন, লালমোহন উপজেলার মো. জলিলের ছেলে মিরাজ, মো. মোতাহারের ছেলে মমিনুল, সাঈদের ছেলে মেহেদী এবং বরিশালের মুলাদী উপজেলার সেলিমপুর গ্রামের মো. রহিমের ছেলে মো. আল আমিন। তারা সবাই চাঁদ উদ্যান ও কেরানীগঞ্জে ভাড়া থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।
আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে যৌথ বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একটি গলির দুই পাশ ঘেরাও করলে সন্ত্রাসীরা একটি এক তলা ভবনের ছাদ থেকে আভিযানিক দলটির ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। আভিযানিক দলটি আত্মরক্ষায় তৎক্ষণাৎ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পাঁচ সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়। পরে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ছাদের ওপর থেকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আটকদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানায়, বুধবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর কাছে তথ্য আসে চাঁদ উদ্যানের লাউতলায় কিশোর গ্যাংয়ের কিছু সদস্য বৈঠক করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি চালান। ফলে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এভাবে দুই থেকে তিন মিনিট গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্য চিৎকার করে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের গ্রেপ্তার করার সময় তাদের দুই সহযোগীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।