বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তিনি রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের ওপর শিক্ষালাভ করেছেন। গান দিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়ান। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল
কেমন আছেন?
জি, ভালো আছি।
‘সুরের ধারা’র কার্যক্রম কেমন চলছে?
ভালোই চলছে। সুরের ধারা বৃহত্তর পরিসরে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কাজ করছে, যাতে লাখো বাঙালির অংশীদারি থাকে। আর বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ যে একটি অনিবার্য সত্তা, তা কি অস্বীকার করার জো আছে? তাই মানুষের সৃষ্টিশীল মননকে সমৃদ্ধ করতে বৃহৎ পরিসরে সুরের ধারাকে বহন করা।
তরুণ প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রচর্চা কতটুকু প্রভাব ফেলেছে?
রবীন্দ্রচর্চা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। যতদিন বাঙালি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন এ চর্চা অব্যাহত থাকবে।
দেশের সংস্কৃতিচর্চায় একটা বিচ্ছিন্নতা ও শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন?
এ কথা সত্য যে, এখনকার প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতিচর্চা মানুষের থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুটো কারণ রয়েছে- আগের মতো গ্রামের মানুষের সাংস্কৃতিকভাবে তৎপর থাকতে না পারা আর শহরের মানুষের জীবনে সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের প্রভাব। আকাশ সংস্কৃতির কারণে শহরে সংস্কৃতির বিশ্বায়ন ঘটেছে। সবার হাতে হাতে অনলাইনের বিচিত্র সম্ভার। নাগরিক মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি এখন অনেকটাই বহির্মুখী। শহরে বাঙালি সংস্কৃতির সুর আর আগের তারে বাজে না। সব মিলিয়েই একটা বিচ্ছিন্নতা ও শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
আপনার সংগীত ক্যারিয়ারে শান্তিনিকেতনের অবদান কতখানি?
আমার তৈরি হওয়া, আমার মনন, বোধ তৈরিতে শান্তিনিকেতনের অবশ্যই একটা বড় ভূমিকা আছে। সবদিক থেকে সাংগীতিক যে বেড়ে ওঠা, সেটাতো বটেই, রবীন্দ্রনাথের দর্শন-সাহিত্য সবকিছুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয়ের সূত্রপাত শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথের যে প্রকৃতি তার সঙ্গে পরিচয় এবং তার মধ্য দিয়ে আমার নিজের চিন্তাভাবনা গড়ে উঠেছিল শান্তিনিকেতনে। মোহর দি (গুরু কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়) যতদিন বেঁচে ছিলেন সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ ছিল, নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল।
আর ছায়ানটের সঙ্গে সম্পর্ক...
ছায়ানটের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আত্মার। দীর্ঘকাল এ সংগঠনটির সঙ্গে আমার সম্পর্ক। ২০১১ সালে চৈত্রসংক্রান্তি উদ্যাপন করতে গিয়ে সুরের ধারার জন্ম হয়। আমি মনে করি, ছায়ানট এবং সুরের ধারা রবীন্দ্রচর্চার ক্ষেত্রে পরস্পরের পরিপূরক।
জীবনে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। কেমন লাগে?
আমি খুবই কৃতজ্ঞ সবার কাছে। স্বীকৃতি ও সম্মাননা সব সময়ই আনন্দদায়ক। প্রত্যেক শিল্পীই কাজের স্বীকৃতি পেতে চায়। আমাকে মানুষ যে সম্মান দিয়েছে সে জন্য সৃষ্টিকর্তা, আমার মা-বাবা, শ্রোতা, আমার ছাত্র-ছাত্রী সবার কাছেই কৃতজ্ঞতা। আমি মনে করি, স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়।