বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার নামের নীরব ঘাতক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। রাজধানীসহ শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগলেও এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব প্রকট। প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস, এমনকি লিভার ক্যান্সারও হতে পারে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও লিভার রোগ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ মানুষ ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি চারজনে একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। ফ্যাটি লিভারে যকৃতে চর্বি জমে যায় এবং যকৃৎ একটু বড় হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শহর এলাকায় প্রায়শই ফ্যাটি লিভারের রোগীদের দেখা পাওয়া যায়। আশঙ্কাজনক হারে এখন গ্রামেও রোগী বাড়ছে। এ দেশে প্রায় ৫ শতাংশ লিভার সিরোসিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ থেকে লিভার সিরোসিস হলে, ১৫ শতাংশ রোগী সাত বছরের মধ্যে আর ২৫ শতাংশ ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। আমাদের খাদ্যতালিকা ভাতনির্ভর হওয়ায় অতিরিক্ত শর্করা শরীরে গিয়ে ফ্যাটি লিভার তৈরি করে। তাই খাদ্যতালিকা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। লিভার বা যকৃতে কিছুটা চর্বির উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তবে যকৃতের ১০ শতাংশের বেশি চর্বি হলে তা ফ্যাটি লিভার হিসেবে বিবেচিত হয়। যাদের শরীরের ওজন বেশি; বিশেষ করে যাদের পেটে চর্বির অংশ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলেও ফ্যাটি লিভারের আগ্রাসন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় ২৩ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষের মধ্যে ফ্যাটি লিভার পাওয়া গেছে। পুষ্টিবিদদের মতে, যারা কার্বো হাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, বিশেষত ভাত বেশি গ্রহণ করে এবং সে তুলনায় শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটা-চলা কম করে, তাদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ঘাতক রোগ থেকে রক্ষা পেতে শর্করাজাতীয় খাদ্য কম খাওয়ার পাশাপাশি যাদের মধ্যে শারীরিক পরিশ্রম এড়ানোর আত্মঘাতী মনোভাব গড়ে উঠেছে, তা থেকে সরে আসার বিকল্প নেই।