তাবলিগ জামাতের এক গ্রুপের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে শেষ হয়েছে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে। আরেক গ্রুপের ইজতেমা ১৪ ফেব্রুয়ারি। দেশবিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশ্ব ইজতেমায় মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। তাবলিগ জামাত মুসলিম উম্মাহর একটি দাওয়াতি কাফেলা, নিঃস্বার্থ ও সুশৃঙ্খলভাবে যারা কোরআন-হাদিসের বাণী নিয়ে দুনিয়ার দেশে দেশে বিভিন্ন জনপদে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে সিরাতে মুস্তাকিমের পথে নিয়ে আসতে এ কাফেলার সদস্যরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কার্যক্রমের এক মহাসম্মিলন। বিপথগামী মানুষকে আল্লাহ ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে আনার জন্য দেওবন্দের নিবেদিতপ্রাণ মুরব্বি মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ভারতের মেওয়ায় তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু করেন। স্বল্পপরিসরে তিনি গুটিকয় সঙ্গী নিয়ে পথভোলা মানুষকে হেদায়েতের পথে আনার যে মিশন শুরু করেন, তা মানুষের মধ্যে সাড়া জাগায়। ১৯৪১ সালে মেওয়ায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ইজতেমা। বাংলাদেশে এ দাওয়াতি কার্যক্রম ১৯৪৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। দুই বছর পর ’৪৬ সালে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে তাবলিগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে। এর দুই বছর পর ’৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে ইজতেমা শুরু হয়। এরপর ’৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, তারপর ’৬৫ সালে টঙ্গীর পাগারে এবং ’৬৬ সাল থেকে তুরাগতীরের ভবেরপাড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তুরাগপাড়ের ওই স্থানে ১৬০ একর জায়গায় তাবলিগের সর্ববৃহৎ ইজতেমা বা সম্মিলন হয়ে আসছে। তাবলিগ জামাতের দাওয়াতে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ আল্লাহর পথে ফিরে আসছে। নামাজ, রোজাসহ ইবাদতে নিজেদের সমর্পণ করছে। ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করে তুলছেন এ জামাতের সদস্যরা। সদাচরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করাকে তারা কর্তব্য বলে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ব ইজতেমায় আল্লাহপ্রেমিকরা ছুটে আসেন মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির আশায়। জাগতিক লোভলালসার ঊর্ধ্বে ওঠার মহৎ গুণ অর্জনের যে শিক্ষা তাঁরা পান তাবলিগের দাওয়াতি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তা হানাহানিমুক্ত একটি শান্তির সমাজ গড়ার ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তাবলিগ জামাত মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত করার সুমহান মিশন হিসেবে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ যে ধর্মপ্রাণ, সেই সত্যটি দুনিয়ার সব দেশের মুসলমানের কাছে স্পষ্ট হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার মতো একটি মহতী উদ্যোগ প্রতি বছর সফলভাবে সম্পন্নের মাধ্যমে। তাবলিগ জামাতে যে বিভক্তি গড়ে উঠেছে, তা কারোরই কাম্য হওয়া উচিত নয়।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক