দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ক্রমেই নাজুক করে তুলছে ঋণ খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি। সুদাহার, ঋণখেলাপি, ঋণশ্রেণিকরণ নীতিমালা সব মিলিয়ে ভালো নেই সার্বিক ব্যবসাবাণিজ্য। ঋণে বিশৃঙ্খলা আরও অস্থির করে তুলেছে অর্থনীতিকে। বর্তমানে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় ১০ লাখ সাড়ে ২০ হাজার কোটি আর বিদেশি ঋণ ১০ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। খেলাপি ব্যাংকঋণের পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো। ঋণের সুদহার কয়েক দফা বেড়ে এখন ১৫ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। ধারাবাহিকভাবে সরকারি ঋণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতির কারণে আগামীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে। দেশের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঋণ শ্রেণিকরণে সরকারের নেওয়া নীতিমালা মোটেই ব্যবসাবান্ধব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালায়ও ব্যবসায়ীদের ব্যাংক সহায়তার পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে সরকারের অনুদার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবসার অনুকূল পরিবেশকেও বিঘ্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ঋণখেলাপি হতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের ধারণা, টানাপোড়েন চলতে থাকলে বিনিয়োগ ভিনদেশে চলে যাবে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, বিদ্যমান প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবসা করা কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার কমাতে হবে। ঋণ শ্রেণিকরণের সময়ও বাড়াতে হবে। এখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আরও কঠিন সংকটের মুখোমুখি হবে দেশের ব্যবসাবাণিজ্য। আমরাও ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো সরকারের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ঋণ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করুন। ব্যবসায়ীদের কথা শুনুন। না হলে ঋণ বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি মিলবে না।