রংপুর অঞ্চলে চলছে বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুম। এরই মধ্যে সার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। দামও বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। রংপুর নগরীর অদূরে মহব্বত খাঁ এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম, আরাজিগুলাল বুদাই এলাকার বোরো চাষি মেজবাহুল হক জানালেন, আগাম বোরো ধানের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ দিন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সারের প্রয়োজন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারি দামের চেয়ে এক থেকে দেড় শ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কৃষকরা জানান, কদিন পর আলু তোলা হবে। ওই জমিতে বোরো ধান লাগানো হবে। সে সময় সারের চাহিদা আরও বাড়বে। কৃষকদের দাবি, এখন থেকে যদি বাজার মনিটরিং করা না হয় তাহলে ভরা মৌসুমে সার নিয়ে হাহাকার অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে বিএডিসি ও বাফার গোডাউনের দাবি, রংপুরে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সার নিয়ে কেউ অবৈধভাবে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রমতে, বাফার গোডাউনে ৫০ কেজি ইউরিয়া সারের দাম ১২৫০ টাকা। ডিলার পর্যায়ে ১৩৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে সার বিক্রি হচ্ছে ১৪৫০ টাকা। সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাফার গোডাউনে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে টিএসপি সারের দাম ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা সরকারি মূল্য ১৩৫০ টাকা। এ সারও বস্তাপ্রতি দেড় থেকে দুই শ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বিএডিসির গোডাউনে এ সারের মজুত রয়েছে ৬ হাজার ৫৯৩ টন। এমওপি সারের মজুত ২ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন এবং ডিএপি সারের মজুত রয়েছে ১৫ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন। এসব সারের সরকারি মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে এক থেকে দেড় শ টাকা বেশি দরে এসব সার বিক্রি হচ্ছে। এমপিও সারের সরকারি মূল্য ১০০০ টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।
ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা বলেন, বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়ছে। দাম বৃদ্ধির কারণে বিসিআইসি ডিলারের দোকানে অনেকে সার ক্রয় করার জন্য ধরনা দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে সারের দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় বড় কৃষকরা সার আগাম মজুত করছে। ফলে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
রংপুর বিএডি যুগ্ম পরিচালক (সার) নির্ম্মাল্য কুমার দাস বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। তাই দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।