চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলারর চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে সাতজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যান। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আছে আরও ছয়জন। নিহতদের মধ্যে নারী তিনজন, শিশু দুইজন ও পুরুষ পাঁচজন। মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের টিম গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এর আগে, ঈদের দিন সোমবার সকালে চুনতি এলাকায় বাসের সঙ্গে মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হন। তাছাড়া, গত মঙ্গলবার একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৮ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। দুটি গাড়ি লোহাগাড়া চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাইক্রোবাসের সাত যাত্রী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন মারা যান। আহত আরেক শিশু, এক যুবক ও এক তরুণীকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী মতিন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী রিলাক্স পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেশ কয়েকবার চালক বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যেই বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের আট যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন।
লোহাগাড়া থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের মধ্য থেকে গুরুতর চারজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানেও দুইজন মারা যান।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, সকালে লোহাগাড়ায় বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। দুপুরের দিকে আরও একজনকে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। এর মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন কিশোরী।
এদিকে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বড়হাতিয়া ইউনিয়নের সেনের হাট এলাকায় ব্রিজে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে মো. অনিক (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নুরুল কবিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিজের ওপর খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় অনিক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগাড়া থানার এসআই সীমান্ত জানান, স্বজনরা হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছে।
বিডি প্রতিদিন/এএম