বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও উপাচার্য শিক্ষকদের ফ্যাসিষ্ট বলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা উপাচার্যকে নিঃশর্ত ক্ষমতা চাওয়ার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার। তিনি বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শুচিতা শারমিন ১৬ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে ফ্যাসিস্ট বলে গালি দিয়েছেন। আমরা প্রমাণসহকারে জানি উপাচার্য ড. শুচিতা শারমিন নিজে ছিলেন ফ্যাসিস্ট শক্তির একজন চিহ্নিত দোসর। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তাঁদের সেই বিবৃতিপত্রে ১০৮ নং স্বাক্ষরকারী ছিলেন উপাচার্য ড. শুচিতা শারমিন। এমন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে ফ্যাসিস্ট বলছেন- এর চেয়ে লজ্জার ও ঘৃণার কিছু হতে পারে না। আমরা তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আমরা দাবি জানাচ্ছি এই বক্তব্যের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের নিকট তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপেক্ষা করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সদস্যের অংশগ্রহণ ছাড়াই সিন্ডিকেট সভায় অবৈধ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি, উপাচার্যের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও ট্রেজারারের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করাসহ অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
একই সাথে সকল দাবি অবিলম্বে পূরণপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন। এই অনুরোধ উপেক্ষা করা হলে শিক্ষক সমাজ কঠিনতর আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের ১৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শুচিতা শরমিনের অপসারনের দাবিতে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন করেন ছাত্রদলের সাবেক নেতারা।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল