জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মোশাররফ হোসেন হলে ইন্টারনট সংযোগের কাজ করার সময় ছাদ থেকে পড়ে এক ইন্টারনেট কর্মী মারা গেছেন। তবে ছাদ থেকে তিনি ঠিক কি কারণে পড়ে যান তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনমানুষের মাঝে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত যুবকের নাম প্রীতম (২২)। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাস্টারনেটের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনা পরবর্তী সময়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মীর মোশাররফ হোসেন হলের এ ব্লকের পশ্চিম পাশে নতুন স্থাপিত আনসার ক্যাম্পে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কথা ছিল মাস্টারনেটের। ওইদিন রাত ১১ টার দিকে আনসার সদস্য রবিউলকে ফোন করে সংযোগ দিতে এসেছিলেন প্রীতম। রবিউল তাকে নিচতলার কক্ষে রাউটার ও সংযোগের স্থান দেখিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে এ ব্লকের ছাদের উপর ইন্টারনেটের তার টেনে নিয়ে আসার জন্য ছাদে উঠেন প্রীতম। ছাদের সর্বশেষ কোণায় রেলিংয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় ইট খসে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ পরে তাকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রীতমের সহকর্মী লিংকন বলেন, আমরা রাত ১০ টা থেকে এক সঙ্গে কাজ করছিলাম। ১১টার দিকে আনসার ক্যাম্প থেকে ফোন আসলে প্রীতম ওইদিকে কাজ করতে যান। পরে দেখি প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেছে তিনি আসেননি। ফোন দিলে ধরেন না। এরপরে আশেপাশে আনসারদেরকে জিজ্ঞেস করি ক্যাম্প কোথায়। আমি ছাদে গিয়ে দেখি গেইট বন্ধ। এখানে এসে খোঁজাখুঁজি করে দেখি পড়ে আছেন তিনি। প্রথমে আমি ভাবছিলাম হয়তো মারা গেছেন। কিন্তু ছাত্র ভাইরা বললেন, প্রীতম বেঁচে আছেন। পরে ওনারাই এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
মীর মশাররফ হলের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, সন্ধ্যা থেকে তারা হলে ইন্টারনেটের কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে রাত একটার দিকে মাস্টারনেটের মালিক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আপনাদের হলে কাজ করতে গিয়ে আমার একটা ছেলে মারা গেছেন। একটু দেখেন। পরে আমি হলের পেছনে এসে দেখি একজন পড়ে আছেন। প্রথমে মৃত ভেবে কেউ সামনে যাইনি৷ পরে ধরে দেখি পালস আছে। তার মুখ দিয়ে প্রচুর ফেনা বের হচ্ছিল। পরে আমরা গাড়ি ডেকে তাকে এনাম মেডিকেলে নেওয়ার ব্যবস্থা করি৷ সেখানে নেওয়া হলে প্রীতম জীবিত নেই বলে ডাক্তার জানায়।
তবে হলের ছাদ থেকে পড়ে প্রীতমের মৃত্যুর পেছনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিষয়টির পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন।
এ বিষয়ে ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের শাবাব বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে ছাদ থেকে পিছলে পড়লে দেয়ালের খুব কাছে থাকার কথা ছিল। কিন্তু অন্তত ১০ ফিট দূরে তিনি চিৎ হয়ে পড়ে ছিলেন। কোনোভাবে এত দূরে তো পড়ার কথা না। আমরা বিষয়টা নিয়ে সন্দিহান।’
এদিকে আনসার সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি রাত দশটা থেকে প্রকৌশল অফিসে ডিউটি করছি। ১১টার দিকে ইন্টারনেটের লোক আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আপনাদের এখানে কাজ করতে আসছি। আমি তাকে রাউটার-জিনিসপাতি দিয়ে আবার ডিউটিতে চলে যাই। পরে ছাত্র ভাইদের ও আনসারদের ফোন পেয়ে আবার আসছি।’
এ ব্যাপারে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি রাত ১টার দিকে খবর পেয়ে কোয়ার্টার থেকে বের হই। ছাত্ররা তখন তাকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখনই প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও নিরাপত্তা কর্মীরা আসেন। প্রাথমিকভাবে ছাদের রেলিংয়ের খসে যাওয়া ইট দেখে ধারণা করছি, তার টানতে গিয়ে তিনি হয়তো পা পিছলে পড়ে মারা গেছেন।
সাভারের এনাম মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক বলেন, “আমাদের এখানে দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে আসা হয়। আমরা জরুরি বিভাগে ইসিজি করে মৃত বলে নিশ্চিত হই যে, তিনি অন্তত ৩০ মিনিট আগে মারা গেছেন।”
বিডি প্রতিদিন/হিমেল