জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ পোষ্য কোটার পর্যালোচনায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৮ জন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তাদের স্থগিত থাকা অনশন শুরু করেছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীরা পুনরায় অনশন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল কক্ষে পোষ্য কোটা নিয়ে ফের আলোচনা সভায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি চলছিল।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ৪২(১) ধারা উল্লেখ করে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরাসরি ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না; কেবল কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পোষ্য কোটার পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছি, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কাছে সুপারিশ দাখিল করবে। পরবর্তীতে ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ, এখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদেরও বক্তব্য শোনার প্রয়োজন আছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্য সচিব তৌহিদ মো. সিয়াম বলেন, আমরা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত পোষ্য কোটার সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছি। তবে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কিছু সংশোধন হলে সেটি আলোচনার বিষয় হতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের মূল দাবির প্রতি সাড়া না দেওয়ায় আমরা পুনরায় অনশন শুরু করেছি, যা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
এর আগে, শিক্ষার্থীরা জাবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের আশ্বাসে সোমবার ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে প্রায় ১৯ ঘণ্টা টানা অনশন পালনের পর অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতবছরের ২৬ ডিসেম্বর স্নাতক ১ম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় উপাচার্যের কোটা ও মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের কোটা বাতিল ঘোষণা করে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত