রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে চার মাস ক্লাস করার পর অবশেষে ভুয়া শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক।
আটক শিক্ষার্থী নাভিক রহমান। তিনি ছদ্মবেশে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ও খেলাধুলাসহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওসি বলেন, সন্দেহজনকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় তাকে আটক করা হয়েছে এবং কোর্টে চালান করা হয়েছে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্লাসকক্ষে এই শিক্ষার্থীর আচরণ দেখে সন্দেহ হলে বিভিন্নভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শিক্ষার্থীরা। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবকও ডাকেন তিনি। তবে তারাও ভুয়া বলে প্রমাণিত হলে তাদের প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।
বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরুখ মাহমুদ বলেন, গত চার মাসে বিভাগের সবকিছুতে সে উপস্থিত ছিল। একদম প্রফেশনাল স্পাই এজেন্টের মতো। সে কোনো গুপ্তচর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্ত করা হোক। এভাবে বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। অথচ বিভাগ কিছুই জানে না। যা খুবই দুঃখজনক ও বিপদজনক বলছেন শিক্ষার্থীরা।
জিজ্ঞাসাবাদে নাভিক রহমান বলেন, মায়ের আশা ছিল ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এই আশা পূরণ করতেই এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অভিনয় করেছি।
আটককৃত শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, আইন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার প্রোফাইল পিকচারে আইন বিভাগ লেখা একটা টি-শার্ট পরিহিত ছবি রয়েছে। সেখানে বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবিও পোস্ট করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সায়েদা আঞ্জুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই