ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশে প্রকৃতির বৈচিত্র্যও নতুন রূপে ধরা দেয়। শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে ঝিনাইদহের গাছে গাছে এখন সজনের ফুলের বাহার। শিমুল-পলাশের লাল আভায় সাদা সজনের ফুল যোগ করেছে অনন্য সৌন্দর্য।
ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলে সজনের ফুলে ছেয়ে গেছে প্রকৃতি। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ, পুকুরপাড়- সব জায়গাতেই থোকায় থোকায় ফুটেছে সাদা ফুল। মৌ মৌ সুগন্ধে ভরে গেছে চারপাশ। পাতা ঝরার পর ফুলে ভরে ওঠা সজনে গাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে মানুষকে।
সজনে শুধু সৌন্দর্য নয়, পুষ্টিগুণ ও ওষধিগুণেও সমৃদ্ধ। জেলার বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করা হচ্ছে। হাজরা গ্রামের বাসিন্দা বোরাক ডাক্তার বলেন, অনেকে এখন বাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন। প্রথম দিকে দাম বেশি থাকলেও পরে তা কমে আসে।" শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে সজনে ডাঁটার ব্যাপক কদর রয়েছে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, সজনে ডাঁটা ওষধিগুণে ভরা একটি সবজি। তিনি বলেন, "আমরা এলাকার তরুণ, যুবক ও কৃষকদের সজনে গাছ লাগানোর বিষয়ে সচেতন করছি এবং এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জানাচ্ছি।"
কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বাড়ির আশপাশে সজনে গাছ লাগিয়ে উপকার পাচ্ছেন। বিনা পরিশ্রমে বেড়ে ওঠা এ গাছ যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি আয়েরও ভালো উৎস। জেলার ছয়টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও ছয়টি পৌরসভায় বহু মানুষ এখন সজনে গাছ রোপণ করে বাড়তি আয় করছেন।
প্রকৃতির সৌন্দর্য আর পুষ্টিগুণে ভরা এই সজনের ডাঁটা খুব শিগগিরই মানুষের খাবারের তালিকায় যুক্ত হবে, আর বাতাসে দোল খাবে সজনে গাছের সবুজ শাখা-প্রশাখা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ