উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় বগুড়ায়। চলতি বছরে আবাদ বেড়ে যাওয়া দাম কমেছে আলুর। দাম কমলেও আলু সংরক্ষণের জন্য বেড়েছে হিমাগারের ভাড়া। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
গত বছর কৃষক আলুর দাম বেশি পেলেও এবার সংকটে পড়েছেন তারা। বাজারে দাম এতটাই কমেছে যে উৎপাদন খরচও উঠছে না। এদিকে গত বছর যে সকল ব্যবসায়ী কৃষকের নিকট থেকে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছিলেন তারা সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছেন। সেসময় আলুর দাম এতটাই বেশি ছিল যে কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষদের হিমশিত খেতে হয়েছে। অথচ বাজারে দাম বেশি হলেও ন্যায্য মূল্যে থেকে প্রতিবছর বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।
জানা গেছে, বগুড়ায় এ বছর ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। ভালো ফলন হওয়ায় এখানে লক্ষ্যমাত্রার বেশি আলু মিলবে। তবে আশানুরূপ ফলন হলেও বাজারমূল্য কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, এবার প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা কেজি। জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রম খরচ মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে তাদের ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ক্ষেত থেকে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি। যা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম। স্বাভাবিক কারনেই চলতি মৌসুমে কৃষকদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে। বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় ৫৫টি হিমাগার রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। চলতি মাসের ২০ তারিখের পর থেকে আলু সংরক্ষণ শুরু হবে। মৌসুমে ১০-১২ দিনেই একটি হিমাগার আলুতে ভরে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধন্ত দিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হিমাগারের বিপরীতে নেওয়া ঋণের সুদ, বিদ্যুৎ খরচ, লোড-আনলোডিং ও পাল্টানোর খরচ, কর্মচারীদের বেতন, বোনাস, বিমা খরচ, গ্যাস বিল, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিশ্লেষণ করে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ব্যয় দাঁড়ায় ৯ টাকা ৬২ পয়সা। তাপরপরেও ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৮ টাকা। এবার প্রতিবস্তায় ৫০ কেজির বেশি আলু রাখা যাবে না। ভাড়া পড়বে ৮ টাকা হিসেবে ৪০০ টাকা।
বগুড়া সদরের দোবাড়িয়া গ্রামের আলু চাষী আমিনুল ইসলাম জানান, গেল বছর ৪ টাকা কেজি হিমাগার ভাড়া দিয়ে সংরক্ষণ করেছি। এখন ভাড়া বাড়িয়ে ৮ টাকা করা হয়েছে। এত টাকা দিয়ে আলু রেখে পরে বিক্রি করলেও লাভ হবে না।
বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন জানান, হিমাগারে আলু রাখার ভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে কৃষকের ক্ষতি হবার সম্ভবনা নেই। কারণ বাজারে এখন কম দাম হলেও পরবর্তীতে দাম বেড়ে যায়।
বিডি প্রতিদিন/এএম